সালমান-শাবনূরের বিয়ে ও স’ন্তান প্রসঙ্গে যা বললেন সামিরা

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় অ’ভিনেতা সালমান শাহ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের শি’কা’র হ’ননি, তিনি পারিবারিক কলহের জে’রে আ’ত্মহ’ত্যা করেছিলেন বলে জা’নিয়েছে ত’দন্ত সংস্থা পিবিআই।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ মাম’লা’র তদ’ন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে এমন ত’থ্য জানান পু’লিশ ব্যুরো’ অব ইনভেস্টি’গেশনের (পিবিআই) প্রধান বন’জ কুমা’র মজুম’দার।

প্রতিবেদনে স্বস্তি প্র’কাশ করেছেন এ হ’ত্যা’ মা’ম’লার এক নম্ব’র অ’ভি’যুক্ত সাল’মান শাহের স্ত্রী’ সামিরা। গেল মঙ্গলবার বি’কেলে জাগো নিউজের মুখোমুখি হন তিনি।

দীর্ঘ আ’লাপচা’রিতায় জানিয়েছেন প্রতিবেদন নিয়ে তার মনের ভাবনার কথা। প্রতিবেদনের প্রে’ক্ষিতে তাকে ঘিরে নানা সমা’লো’চনার জবাবও দিয়েছেন তিনি। সেই আ’লাপের চু’ম্বকাংশ পাঠ’ক’দের জন্য তা তুলে ধরেছেন লিমন আহমেদ-

অনেক প্র’তীক্ষার পর পিবিআইয়ের ত’দ’ন্ত প্রতিবেদন এলো। সেখানে সা’লমান শাহ আ’ত্মহ’ত্যা করেছেন বলেই জা’না গেছে। এই প্র’তি’বেদন নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা দুইই হচ্ছে। আপনি এটাকে কী’ভাবে দেখছেন?

সামিরা : আমা’র আসলে এতে আ’নন্দ’ও হচ্ছে না, আবার নতুন কোনো কিছু মনে হচ্ছে না। কারণ এর আ’গেও চার চার’বার বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবে’দনে আ’ত্মহ’ত্যা’ই এসেছে। আমি এটা ১৯৯৬ সাল থে’কেই বলে আসছি। আমা’র চেয়ে তো কেউ বেশি জানে না। কিন্তু আমাকে

স’ম্পূর্ণ অ’ন্যায়’ভাবে ইমনের (সালমান শাহ) মা, ভাই ও কু’মকু’ম মামা অ’পরা’ধী করেছেন। যা তা গল্প বা’নিয়ে সবার সামনে আমাকে অ’ত্য’ন্ত বা’জে’ভাবে খু’নি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চে’ষ্টা করেছেন। অনেক পরে এসে আবারও সে’টাই প্রমাণ হয়েছে যা আমি বলেছি যে সালমান আ’ত্মহ’ত্যা’ করেছে। শুধু আমি নই, যারা ও’ইদিন বাসায় ছিলে’ন ঘটনার সময় সবাই এটা বলে আসছেন।

ইমনের মা, ভাই ও মা’মা’রা একে’কবার একেক কথা বলেছে। তারা গল্প বানি’য়েই গেছে। তাদের যে কথা ইম’নের মৃ’ত্যু’র দিন ছিলো সেটা এক মা’স পর অ’ন্য রকম হ’য়েছে। পরের বছর আরও অ’ন্য’রকম হয়েছে। কাল প’র্যন্ত তারা নতুন নতুন বক্ত’ব্য দিয়েছেন। কিন্তু আমি তাই বলে এসে’ছি পু’লিশের কাছে জ’বানব’ন্দিতে যা ১৯৯৬ সালে বলেছিলাম। কারণ আমি কোনো গল্প বানাইনি।

তবে যেটা ভালো লেগেছে পি’বি’আই মা’ম’লা’টিকে দারু’ণ’ভাবে বিশ্লে’ষণ করেছে। যুগের সঙ্গে তাল মি’লিয়ে এটাকে হ্যা’ন্ডেল করে সবার সা’মনে প্রে’জেন্ট করেছে। এর স’ঙ্গে জ’ড়িত প্রায় সবাইকে জড়ো করে তাদের জ’বান’ব’ন্দি নিয়েছে নতুন করে। সবার বক্তব্য, আলামত,

বিভি’ন্ন রিপো’র্ট আমলে নিয়ে খুঁ’টিনাটি সব তুলে এনে তারপর প্রতিবেদন করেছে। তারা ভি’ডিও করে জিনিসটা প্রেজেন্ট করেছেন। এখানে অনেক কিছু নতুন তথ্য এসেছে। যা আমা’রও জানা ছিলো না। সবার জ’বান’ব’ন্দি নেয়ার কারণেই পিবিআই অনেক ইন’ফ’রমেটিভ একটি রিপোর্ট তৈরি করতে পেরেছে। এজন্য আমি কৃ’তজ্ঞ’তা জানাই পু’লিশের এই সংস্থার প্রতি।

আপনি সালমান ‘হ’ত্যা’ মা’মলা’র এক নম্বর আ’সা’মি ছিলেন। এই প্রতি’বেদন সেই অ’ভিযোগ থেকে মু’ক্তি দিয়েছে। এটা নি’শ্চয়’ই স্বস্তির……

সামিরা : তাতো বটেই। এই ২৪ বছরে যে গ্লানি, অ’প’বাদ আমি বয়ে বে’ড়িয়ে’ছি সেটা একজন না’রী হিসেবে কতোটা ক’ষ্টের ছি’লো, কতোটা অমা’নবি’ক ছিলো তা কাকে বোঝা’বো? চোখের সামনে স্বামী’কে হা’রালা’ম যাকে এক কা’পড়ে ঘর ছেড়ে বিয়ে করে’ছিলাম। সেই স্বামীর খু’নে’র অ’ভি’যো’গ মা’থায় নিলাম। একজন নারী হয়ে আমা’র শা’শুড়ি আমা’র জীবনটাকে বি’ষি’য়ে দিয়েছেন।

এটা কি ঠিক হলো? এর বিচার কে ক’রবে? এই দীর্ঘ সম’য়ে প্রতিটা রা’ত, প্রতিটা দিন আমি নি’জের সঙ্গে যু’দ্ধ করেছি। এক’টা সংসার আছে আ’মা’র, তিনটা বাচ্চা আছে। তারা হে’য় হয়েছে, তাদের কাছে আমি ছো’ট হয়েছি। সমা’জে আমি ছোট হয়েছি। সালমান ভ’ক্ত’দের কাছে আমি ছোট হয়ে চ’লেছি। তবুও আমি ধৈ’র্য’শালী ছিলাম। কারণ আজ কিংবা কাল, সত্যি’টা সত্যিই হয়।

হলোও। সা’লমা’নের মা ও পরিবারের অ’ন্য’দের ষ’ড়য’ন্ত্র এবং উদ্দেশ্য সবাই বুঝতে পারছে। পিবিআইয়ের প্রতি’বেদনের পর অসংখ্য ভ’ক্তরা আমা’র সঙ্গে যোগা’যোগ করছে। তারা উপল’ব্ধি করছে যে সালমা’ন স’ত্যি খু’ন হ’লে বারবার সেটা আ’ত্মহ’ত্যা’ হয়ে আসতো না। আমি এমন কেউ নই যে দেশের সবাইকে কিনে নেবো। এখানে এমন অনে’কের বক্ত’ব্য নেয়া হয়েছে যাদের কথা আমিও জানতাম না। এসব বিষয় সবাইকে ভাবাচ্ছে৷ সবাই সত্যটা বুঝতে পারছেন। প্রিয় নায়ক আ’ত্মহ’ত্যা করেছেন এটা মানতে ক’ষ্ট হলেও তা’রা বা’স্তবতা মেনে নিচ্ছেন। এটা ভালো লাগছে।

সবসময় শোনা গেছে আপনি নতুন বি’য়ে করে স্বা’মী-স’ন্তান নিয়ে বিদেশে পা’লিয়ে আছেন…..

সামিরা : আমা’র নামে এ’হেন কোনো মি’থ্যে নেই যা তারা ব’লেনি, ছড়া’য়নি। আমাকে নিয়ে ম’নগ’ড়া চটি গল্প ‘বানিয়ে সে’গুলো পত্র-প’ত্রিকায় ছাপিয়ে সাল’মান ভক্ত’দের কাছে আমাকে খা’রাপ বানানো হয়েছে। আমি কেন পা’লিয়ে যাবো? আমি স্বা’মী সং’সার নিয়ে সবসময়ই দেশে ছিলাম, আছি। বরং তা’রাই কেউ দেশে নেই। সালমানের মৃ’ত্যু’র পর তার বিষয় স’ম্পত্তি নিয়ে দেশ ছে’ড়েছে। সা’লমানের মা ও ভাই ল’ন্ড’নে থাকে। মামা আ’লম’গীর কুমকুম আ’মেরিকা’য় থাকেন।

বি’দেশে এসি রুমে বসে বসে তারা সালমান খু’নে’র বিচার চান, বাচ্চা বাচ্চা ভক্তদের রা’য় নামিয়ে আ’ন্দোলন করান। এসব আর বলতে ইচ্ছে করে না। ভ”ক্তরা আ’বে’গের জায়গায় এসব করে। তারা য’তোই বাস্ত’ববাদী হবে ততোই মঙ্গল। আমি কখনো পা’লা’ইনি। দেশে থাকি। মাঝেমাঝে বিদেশ বেড়াতে যাই। আর তারা মাঝেমাঝে দেশে বেড়াতে আসে।

সালমান শাহের মৃ’ত্যু’র পর থেকে আ’পনি আ’ড়া’লে। মিডিয়ায় আসেননি কখনো। এজন্যই অনেক ত’থ্যের গ্যা’প তৈরি হয়েছে। সবসময় সাল’মানের পরি’বারের পক্ষ থেকে একতরফা কথা শোনা গেছে। এইটা সা’লমান ভক্তদের কাছে আপ’নাকে খু’নি’ বা অ’ভিযুক্ত হিসেবে আরও বেশি প্র’তিষ্ঠা করেছে ব’লে মনে হয় না?

সামিরা : হতে পারে। কিন্তু আমি কখনো চাইনি মি’ডিয়ার সামনে কথা বলতে। এর কিছু কারণ আছে। এক ন’ম্বরটি হলো আমি চা’ইনি সালমানকে খা’টো করতে। আমাকে কে ভালোবাসলো না বাসলো তা নিয়ে আমি ভাবি না। আজও ভাবি না। কিন্তু সবাই সালমানকে ভালোবাসছে এটা আমা’র ভালো লাগে। তাই চু’প থেকেছি। কারণ কথা বলতে গেলেই অনেক কথা বাড়ে। এই যে এখন সবাই শাবনূরকে টেনে এনে সালমানের চরিত্র নিয়ে নানারকম সমালোচনা করছে। এটা আমি চাইনি কোনোদিন। কিন্ত মা হয়ে, ভাই হয়ে তারা চেয়েছে। আ’ত্মহ’ত্যা’ জেনেও এটা নিয়ে না’ট’ক বানিয়েছে, একবার দা’ফ’ন করা লা’শ আ’বার উঠি’য়েছে। একবারের রি’পোর্ট বারবার ক’রিয়ে ঘাঁট’তে ঘাঁ’টতে সালমানকে সমালো’চনার পাত্র বানিয়েছে। এটা তাদের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। আমি কোনোদিন চাইনি। যা হয়েছে মেনে নিয়েছিলাম।

সালমান আমাকে সরি বলেছিলো, আমি সব ভুলে তার সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলাম। শাবনূরকেও ক্ষ’মা করে দিয়েছি। কোথাও একটি কথাও আমি বলিনি সালমান-শাবনূরের স’ম্পর্ক নিয়ে। শাব’নূরকে নিয়ে একটা অ’ভি’যোগও তুলিনি আমি। আমি চাইনি এসব নিয়ে আলোচনা হোক।

দুই নম্বর হলো মিডিয়া চিনেছি আমি ইম’নের হাত ধরে। সে চলে যাবার পর এই মিডিয়া আমি আর নিতে পারিনি। ইমনের মায়ের কথামতো মিডিয়া আমাকে নিয়ে তথ্য প্রমাণ ছাড়াই এত বা’জে’ভাবে লিখেছে যা আমি নিতে পারিনি। তিন ন’ম্বর হলো আমা’র আইনজীবী সবসময় না করেছেন মিডিয়াতে না আসতে৷ এটা নিয়ে মা’মলা’র ঝা’মেলা হতে পারে তাই।

সালমান শাহ’র মা
আর একটা বিষয় জানতে চাই, সালমান শাহের বাবা মা ও ভাই থাকতেন গ্রিন’রোডে। আপ’না’রা ইস্কাটনে আলাদা থাক’তেন কেন? শ্বশুর-শাশুরির সঙ্গে কী’ ঝা’মে’লা ছিলো?

সামিরা : এটা আমি আসলে বলতে চাইনি কখনো। কারণ আমাকে ছোট করলেও আমি সালমানের মা হিসেবে নীলা চৌধুরীকে কখনো কারো কাছে ছোট করতে চাইনি। সে আমা’র নামে যত বা’জে কথা ছড়িয়েছে আমি কিন্ত তাকে নিয়ে কোনো টিভি-রেডিওতে গিয়ে কুৎসা রটা’ইনি। বললে বলার শেষ হবে না। আজ যখন প্র’সঙ্গটা আসলো তাই বলছি। নীলা চৌধুরী আমা’র গা’য়ে হা’ত তু’লেছি’লেন। তখন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘স্নেহ’ ছবির শু’টিংয়ে বান্দ’রবান ছিলো সালমান।

আমাকে মা’রধ’রের খব’র পেয়ে বিনা নো’টিশে একদিনের জন্য ও ঢা’কায় ছুটে এসেছিলো। গাজী সাহে’বকে জিজ্ঞেস করলেই এটা জানতে পারবেন। আমি রে’ফারে’ন্স দিয়ে কথা বলছি। বানিয়ে নয়। সালমান ঢাকায় এসে দেখলো আমি বাসা’য় পড়ে কা’ন্না’কাটি করছি। তার মা হা’সপাতা’লে ভর্তি হয়েছেন ছেলেকে ই’মোশ’নাললি ব্ল্যা’কমে’ইল করতে। সালমান কিন্তু তার নাট’ক বিশ্বা’স করেনি। সবার কাছে ঘ’টনা শুনে সে বি’র’ক্ত হলো। এরপর আলা’দা হয়ে আমাকে নিয়ে ইস্কা’টনের বাসায় উঠলো।

সেখানে খুব একটা আ’সতেন না নীলা চৌধুরী। সবমিলিয়ে হয়তো চারবার এসেছেন। তবে আমা’র শ্ব’শুর আসতেন প্রায়ই। তিনি আমাকে খুব আদ’রও করতেন। মা বলে ডাক’তেন। আমিও তাকে কোনোদিন অশ্র’দ্ধা করিনি।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদন নিয়ে সালমানের মা আ’প’ত্তি জানিয়েছেন। এটাকে নাট’ক বলেছেন। তার দাবি আপ’নি ও পিবিআই মিলে মন’গড়া নাট’ক বানিয়েছেন বিচারের নামে। এ বিষয়ে কী’ বলবেন?

সামিরা : তিনি কিছুই মানেন না। ডিবি, সিআইডি, জজকোর্ট এবার পিবিআই। সবাই মি’থ্যে বলছে। সবাইকে কিনে ফেলেছি আমি? এই ২৪ বছরে সরকার বদলেছে বারবার, কত অফি’সা’রের মৃ’ত্যু’ হয়ে গেল, কত’জন নতুন এলেন। সবাইকে আমি ব’শ করে ফেলেছি? এটা বিশ্বা’স’যোগ্য? তিনি আইনের সমা’লোচনা করেন, আইনের সংস্থাকে নাট’ক বলেন। আসলে তিনি প্র’তিবেদন মেনে নিতেন যদি সেখানে আমাকে খু’নি’ বলা হতো।

কিন্তু এটা তো হয়নি। পৃথিবীর যে প্রান্তে গিয়েই ত’দন্ত করা হোক না কেন সত্য কখনোই বদলে যাবে না।

তিনি তো অনেক চেষ্টাই করলেন। কত গল্প বানালেন, আমাকে দুনিয়ার লোকের সঙ্গে প্রেম করালেন। ফটোশপের কারসাজিতে এর সঙ্গে বসালেন, ওর সঙ্গে শুয়ালেন। একটাও প্রমাণ হয়নি। কারণ মি’থ্যেকে জো’র করে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। আমা’র ক’ষ্ট হয়, কেমন করে পারলেন তিনি এতকিছঠু? আমি না তার ছেলের বউ ছিলাম। আমি তো সালমানের সঙ্গে সঙ্গেই বেশি সময় কা’টাতাম। সিনেমা’র মানুষেরা তার সাক্ষী।

তাছাড়া ইস্কাটনের বাসাতে অনেক সি’কি’উরিটি ছিলো, কাজের লোকজন ছিলো। তাদের চোখ ফাঁ’কি দিয়ে এত প্রে’ম আমি কর’লাম কখন? সালমান কিছুই জানতো না?

আর কেন করবো? সময়ের সেরা হার্টথ্রব পু’রুষটি আমা’র স্বা’মী ছিলো। সালমানের বউয়ের আর কোনো প্রে’মিক লাগে না। কী’সব নাম বলেছে আমা’র স’ঙ্গে জড়িয়ে। আজিজ মোহাম্ম’দ ভাইকে আমি চিনতাম না। নীলা চৌধুরী চিনতেন। তিনি আরও অনেককেই চিনতেন।

সালমান আমা’র প্রে’মিক, সালমান আমা’র স্বামী। আজও মানুষ নায়ক সালমানকে যেমন মনে রেখেছে, আমিও আমা’র জীবনের সেরা মানুষটিকে মনে ধারন করে রেখেছি।

যাকে এখন বিয়ে করেছি সে এটা জেনে ও মেনেই আমাকে বিয়ে করেছে। কে বিশ্বা’স করলো না করলো তাতে কিছুই যায় আসে না। চি’ৎকার করে লোক দেখিয়ে আমা’র ভালোবাসা আমি কোনোদিন প্রচার করিনি।

নীলা চৌধুরী এও দাবি করেছেন যদি এটা আ’ত্মহ’ত্যা’ও হয় তবে শাবনূর এবং আপনার দোষ। আপনাদের গ্রে’ফতা’র হওয়া উচিত……

সামিরা : তিনি তো আমাকে গ্রে’ফতা’র দেখাতেই চান। আমাকে সরিয়ে সালমানের সবকিছু ভো’গ করছেন। আমা’র নামে ব’নাবী’তে ফ্ল্যাট কিনেছিলো সালমান, আমাকে লাল রঙ্গের একটা গাড়ি গিফট করেছিলো বিয়ে’বার্ষিকী’’তে।

সেগুলো কই? কেউ কিছু বলার নেই। ইচ্ছেমতো সব ভোগ করা যাচ্ছে। আমি এতো খা’রাপ হলে আমাকে ছোট ছেলেকে দিয়ে বি’য়ে করিয়ে রাখতে চান কেন? একটা রেডি’ওতে তিনি বলেছেন,

আমাকে সালমানের ছোট ভাইয়ের স’ঙ্গে বিয়ে দিয়ে রেখে দিতে চেয়েছিলেন। আমি তো খা’রা’প। তাহলে কেন এমনটা ভাবেন। আর সালমানের ছোটভাই আমা’র পাঁচ বছরের ছোট। তিনি কেমন করে এ ধ’রনে’র ভা’বনা ভাবেন।

তবে পয়েন্ট হলো তিনি এখন এটাকে আ’ত্মহ’ত্যা বলে মানতে শুরু করেছেন। তিনি মনে প্রাণে বি’শ্বা’স করেন এটা আ’ত্মহ”ত্যাই। কিন্তু তিনি এটা নিয়ে জ’ল ঘো’লা করতে চেয়েছেন, আমাকে ও আমা’র পরি’বা’রকে জ্বা’লিয়ে পু’ড়ি’য়ে মা’র’তে।

কারণ তার কথা না মেনেই ইমন আমা’কে বিয়ে করে’ছিলো। তার শো’ধ নিচ্ছেন তিনি। তার কথা হলো যে কোনোভাবেই হোক আমাকে অ’পরা’ধী করা। নতুন করে শাবনূরের নাম যোগ করেছেন।

কারণ এখন পিবিআই বলে দিয়েছে শাবনূরের সঙ্গে স’ম্পর্ক নিয়ে চা’পে ছিলো সালমান। আসলে সেই ১৯৯৬ সাল থেকেই তিনি আ’সা’মীর তালিকা বাড়িয়ে চলেছেন। তার কথার কোনো ঠিক নেই, স্থিরতা নেই।

সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম ও আরও অনেকেই একটা প্রশ্ন তুলেছেন যে আপনার মামী এই মা’মলা’র রাজসাক্ষী রুবি সুলতানাকে ডাকেনি পিবিআই। তাই ত’দন্ত পূর্ণ হয়নি……

সামিরা : প্রথমেই বলে রাখি রু’বি সুলতানা আমা’র কেউ নয়। আমা’র তিন মামা, তারা তিনজনই চা’ইনিজ মেয়ে বিয়ে করেছেন, কানা’ডায় থাকেন। রুবি আমা’র বোনের শাশুরির এক দূর স’ম্পর্কের চা’ইনিজ আত্মীয়কে বিয়ে করেছেন। তার সঙ্গে আমা’র কোনো স’ম্পর্ক নেই।

রুবি সুলতানা ফেসবুকে এসে হঠাৎ করে নিজের স্বা’মী ও ভাইকে সালমানের খু’নি’ বানিয়ে মুখ’রোচ’ক গল্প ছড়া’লো। পরে তার পরি’বার জানিয়েছে রুবি মা’নসি’ক ভার’সাম্য’হীন। সে চিকিৎসাও নিচ্ছে। পিবি’আই হয়তো এ কারণেই তার বক্তব্য নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। এ নিয়ে পিবিআই কিন্তু ব্যাখ্যা দিয়েছে। তারপরও প্রশ্ন তোলার মানে হচ্ছে বিচার মানি কিন্তু তাল’গাছ আমা’র।

সালমানের মামা আরও একটি প্রসঙ্গ এনেছেন। তিনি বলছেন স্বামী আ’ত্মহ’ত্যা’ করছে দেখেও আপনি অ’জ্ঞান হয়ে যাননি…..

সামিরা : কেন সে’ন্সলে’স হবো আমি। স্বামী মা’রা যাচ্ছে দেখে কী’ বউরা সেন্স’লেস হয়ে যায়? নাকি সেটা সামলা’নোর চেষ্টা করে, সবাইকে ডেকে আনার চে’ষ্টা করে? কুমকুম মামা এত কথা বলেন, উনার এক ছে’লে মা’রা’ গেছে। কই কখনো তো সেই ছে’লের জন্য তাকে কাঁদতে দেখিনা। তিনি সালমান সালমা’ন করেন সারাবেলা। সালমান তো তাকে মোটেও পছন্দ কর’তো না। আমা’র চেয়ে এসব আর কে বেশি জানে।

আসলে উনাদের কথার কোনো শেষ নেই। একেকবার একে’ক কথা বলেছেন। কখনো বলেছেন ঘটনার সময় আমি রুমে ছিলাম না। কখনো বলেছেন আমি মেকাপ করে সাজ’গোজ করা অবস্থায় ছিলাম। কখনো বলেছেন আমি পাশের ‘রুমে ছিলাম। কিন্তু সত্যটা হলো আমি ওখানেই ছিলাম। ভাই রে ওই বাসায় ক’য়টা রু’ম ছিলো?

আর আমি কেন সেন্স’লেস হবো? এখানে সেন্সলেস মানে কী’ আ’মাকে অ’জ্ঞা’ন হয়ে যেতে হবে? ইমনের মা’মা হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন আমি স্বাভাবিক ছিলাম। ডাহা মিথ্যা কথা।

দরজা খোলে ইমনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেই তো আমি আতংকে চি’ৎকার-কা’ন্নাকাটি শুরু করলাম। প্রশ্ন উঠেছে কেন ডা’ক্তার ডাকিনি, হাস*পাতালে নিয়ে যাইনি। তখনও তো ভাবিনি যে ইমন আর নেই। তাকে নামিয়ে সবাই চেষ্টা করছি’লাম জ্ঞান ফেরা’নোর।

আর ডাক্তার ডাকিনি কে বললো? বাসায় কোনো ল্যান্ডফোন ছিলো না। যে ফোনটা ছিলো সেটাও রাতে ইমন ভেঙে ফে’লেছিলো। সাথে সাথে কাউকে ফোন করে ডেকে আনার উপায় তো ছিলো না।

এগুলো তো কমন বিষয়। তারা জানেন না? নাকি বুঝে’ন না। আমা’র চি’ৎকার শুনে আশপাশের লোকরা ছুটে এলো। কেউ নিচে গিয়ে এ’কজন ডাক্তারকে ডেকে আনলো। ইমনের বাবা-মা’য়ের কাছে খবর দেয়া হলো। উনারা এলেন।

আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না এটা কেমন করে বলেন তারা? ওই রুমে কম করে হলেও ২৫ জন মানুষ ছিলো। যখন ইমনে’র বাবা, মা ও ছোট ভাই এলো তখন আ’মা’র কোলে ইম’নের মাথা।

আমি চি’ৎকার করে কাঁদছি। আমাকে কেউ স্বা’ন্তনা দেয়নি। আমা’র শ্বশুর-শাশুরিও না। শাশুরি আমা’র পিছন দিক থেকে রুমে ঢুকেই আমা’র পিঠে একটা লাথি মা’রেন। অকথ্য ভাষায় গালি দিতে শুরু করেন।

ইমনের ছোট ভাই সেও তো ধমকাধমকি করলো। সেই ঘটনা কাজের লোক ও উপস্থিত সবার সামনে ঘটেছে। পিবি’আইয়ের কাছে জবানবন্দীতে অনেকে বলেছেও এই কথা।

তাদের সন্তান-ভাই হা’রিয়েছে, আর আমা’র? আমা’র তো স্বা’মী গেল। ২২ বছরের একটা মেয়ে বিধ’বা হ’লাম। কেউ কী’ সেদিন আমা’র ক’ষ্টটা বুঝতে চেষ্টা করে’ছিলো।

উল্টো রঙ চঙ মা’খিয়ে আমা’কে মক্ষী’রানী সাজিয়ে দেশবাসীর কাছে স্বামী’র খু”নী’ হিসেবে পরিচয় করানো হলো। ২৪ বছর ধরে আমা’র সঙ্গে যে অবিচা’রটা করা হলো তার বি’চার কে করবে?

একজন না’রী হি’সেবে আমা’র এই ল’ড়া’ইটা, সংগ্রামটা কেউ কী’ অনুধাবন করতে পারবেন? যারা কোনো তথ্য প্রমাণ না পেয়েই কেবল গল্প আর মনগড়া তথ্যের আবেগে ভেসে আমা’র শা’স্তি চেয়ে আ’ন্দোলন করেছেন, আমাকে ও আমা’র পরি’বারকে গা’লা’গালি করেছেন তাদের কাছে আমা’র এই প্র’শ্নটা রইলো।

সালমানের মা নীলা চৌধুরী আরও একটি প্রশ্ন তুলেছেন, সালমান শাহ যদি আ’ত্মহ’ত্যা করে থাকেন তাহলে তাকে হযরত শাহ’জা’লাল (র.) এর মাজারে কী’’ভাবে দাফন করা হলো? মাজারে তো আ’ত্ম’হ’ত্যার মৃ’ত’দে’র দা’ফন নি’ষেধ…..

সামিরা : সেটা তো তাদেরই জানা উচি’ত কী’ভা’বে সালমানকে তারা সেখানে দাফ’ন করেছে। আপনারা প্রশ্ন করুন। কেন তা’ড়াহু’ড়ো করে এভাবে তাকে দা’ফন করা হলো? আমাকে নি’য়ে যাওয়া হয়’নি তো লা’শে’র স’ঙ্গে। তারা সত্য কথা লু’কি’য়ে মা’জারের সঙ্গে প্রতা’রণা করেছে এটা তাদের দায়, আমা’র নয়।

তবে আমি খু’শি সাল’মানের দা’ফ’ন মা’জা’রে হওয়াতে। একবার এক সিনে’মা’র শুটিংয়ে সিলেট গিয়ে’ছিলাম আম’রা। সেবার শাহ’জালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত করেছি’লাম দুজনে। হঠাৎ সালমান বললো সে মা’রা’ গেলে তাকে যেন এখানে দা’ফ’ন করা হয়। যেভাবেই হোক তার এই ই’চ্ছেটা পূরণ হয়েছে।

সালমান শাহের পরি’বার থেকে বলা হচ্ছে পি’বি’আইয়ের প্রতিবেদন মানেন না তারা। বিচার চালিয়ে যাবেন। হয়’তো উচ্চ আ’দালতে যাবেন…..

সামিরা : আমি তো আগেই বলেছি। তারা ‘কি’ছুই মানবে না। তাই বলে সত্য মি’থ্যে হয়ে যাবে না। দেশের আ’ইন ব্যবস্থা’র উপর তাদের ভ’রসা নেই।

ডিবির ত’দন্ত মানেই, সিআই’ডিরটাও মানেনি, র্যাব’কে দিতে চেয়েছিলো কিন্ত এটা র্যাবের মা’মলা নয় বলে র্যাব নেয়নি, জজকোর্ট মানেনি, পিবিআই মানছে না। তাহলে এখন কার কাছে যাবে?

কে করবে ত’দন্ত? তারা নিজে’রাই? নাকি জনগণ? জনগণ সব কথা তো এতদিন জানতো না। এখন জানছে। জনগণের রায়ও তাদের পক্ষে যাবে না।