প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু, হাই অ্যালার্ট জারি

ফণীর প্রভাব থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি ভারতের ওড়িশা। আর এরই মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করে তৈরি ঘূর্ণিঝড় বায়ু। ভারতের পশ্চিম উপকূলে খুব শীঘ্রই আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড়টি।

ভারতের গুজরাটের পোরবন্দর ও মহউভার এলাকার মধ্যে এটি আছড়ে পড়তে পারে ১৩ জুন। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ১২০ কিলোমিটার বেগে গুজরাট উপকূলে এটি আছড়ে পড়বে। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

কিছুদিন আগেই তাণ্ডব দেখিয়েছে ফণী। ভারতীয় উপকূলে ১২০ কিলোমিটার বেগেই আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড়টি। যার ফলে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ওড়িশা উপকূল। আজও সেখান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওড়িশা। চেষ্টা চলছে এখনও।

এদিকে বায়ু ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগও একই হওয়ায় ফিরে এসেছে ফণী আতঙ্ক। তবে শুধু গুজরাট উপকূলই নয়, লাক্ষাদ্বীপ ও আমিনদিভিতেও এর প্রভাব পড়বে বলে খবর। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করবে।

আবহাওয়া দপ্তর ১৩ ও ১৪ জুন সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ এলাকায় ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হবে। ভেরাভল ও দিউ এলাকাতেও ১১০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। মৎসজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে চলে গিয়েছে, তাদের ফিরে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলের পূর্ব-মধ্য ভারতের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি ধেয়ে আসতে পারে। আরব সাগরের সংলগ্ন এলাকায় ৯০-১০০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। কেরল, কর্ণাটক ও দক্ষিণ মহারাষ্ট্রেও বায়ুর প্রভাব পড়বে।

বুধবার আরও শক্তি সঞ্চয় করে গুজরাটের দিকে যাবে বায়ু। তখন তার গতিবেগ হবে ১১০-১২০ কিলোমিটার। অনুমান, শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। তবে মহরাষ্ট্র উপকলে ৭০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বইবে না ঝোড়ো হাওয়া।

বায়ু থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের মধ্যে সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ উপকূলে পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় বিপর্ষয় মোকাবিলা দপ্তরের ১০ জন সদস্যের একটি দল।

এছাড়া সেনা, নৌসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে। হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে গুজরাটের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। একাধিক এলাকায় স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছেন।