ইজতেমা নিয়ে তাবলিগের দু’গ্রুপের উত্তেজনা

কুমিল্লার মুরাদনগরে তাবলিগ জামাতের জেলা ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাবলিগ জামাতের সাদপন্থীরা উপজেলার বাখরনগর এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমার আয়োজন করে।

ওই স্থানে সাদপন্থীদেরকে জেলা ইজতেমার নাম করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য দাবি জানায় তাবলিগ জামাতের অপর গ্রুপ জুবায়েরপন্থীরা।সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার জুবায়েরপন্থীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল,

সড়ক অবরোধসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে। এ সময় জুবায়েরপন্থীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। তাবলিগ জামাতের বিরাজমান দুটি গ্রুপের বিভেদ দ্বন্দ্ব এবং চলমান উত্তেজনা দেখে প্রশাসন সাদপন্থীদের জেলা ইজতেমার অনুমোদন দেয়নি।

পরে সাদপন্থীরা ওই স্থানে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করে। অপরদিকে ওই ইজতেমা প্রতিহত করতে নানা পদক্ষেপ নেয় জুবায়েরপন্থীরা। এ ঘটনায় যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে তিন শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

যুগান্তরপুলিশের এমন তৎপরতার কারণে তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপ কোনো প্রকার সহিংসতা করতে পারেনি। এদিকে তাবলিগ জামাতের দু’গ্রুপের মধ্যে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানা কৌশল অবলম্বন করে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

সূত্র জানায়, ওসি একেএম মনজুর আলম তাবলিগ জামাতের দু’গ্রুপকে কৌশলে শান্ত করে এলাকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপের মাঝে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা থাকলেও ওসির দক্ষতায় এবং নানামুখী পদক্ষেপের কারণে অস্থিতিশীল পরিবেশ শান্ত হয়ে আসে।

পুলিশ এবং প্রশাসনের এমন তৎপরতায় বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।মুরাদনগর উপজেলার কওমি মাদ্রাসার সভাপতি মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ বলেন,

কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যাকারী ভ্রান্ত সাদপন্থীদের তথাকথিত জেলা ইজতেমা বন্ধের দাবিতে আমরা মুরাদনগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছি। মঙ্গলবার আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি মুরাদনগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাখরনগর ইজতেমা অভিমুখে রওনা করলে পুলিশের বাধার মুখে আমরা রহিমপুর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করি।

তখন একই সময়ে আমাদের মুরব্বিরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এবং জেলা প্রশাসক ইজতেমা করার বিষয়টি স্থগিত করার নির্দেশ দেন।সাদপন্থী ইজতেমা মাঠের জিম্মাদার জিয়া উদ্দিন বলেন,

আমরা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছি তাই আমরা ইজতেমা করতে পারছি না। আমাদের ইজতেমাতে অংশগ্রহণ করার জন্য দূরদূরান্ত থেকে অনেক সাথী ভাই এসেছিল তাদেরকে নিয়ে আমরা আশপাশের ৬টি মসজিদে অবস্থান করছি।

আমরা ৩দিনের জামাতের নিয়তে এসব মসজিদে আছি। আমাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই। আমরা অভিযোগ করব একমাত্র আল্লাহর কাছে।

মুরাদনগর থানার ওসি একেএম মনজুর আলমকে মোবাইল ফোনে বক্তব্য নিতে কল করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তারপর এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।