আজ লর্ডসে ফাইনাল দেখতে সাকিবকে আমন্ত্রণ জানালো আইসিসি

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল দিয়ে আজ ঘণ্টা বাজবে বিশ্বকাপের। এই ঐতিহাস ম্যাচে লর্ডসের বিখ্যাত প্যাভিলিয়ন আজ মুখরিত হয়ে উঠবে বিখ্যাত ক্রিকেটারদের পদচারনায়।

এমসিসির সদস্য হয়ে লর্ডসের বিখ্যাত প্যাভিলিয়নে বসে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার আমন্ত্রণ পেলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। সাকিবের সাথে উপস্থিত থাকবেন এমসিসির অন্যান্য সদস্যরাও।

বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানকে নিয়ে এমসিসির ১৫ সদস্যের প্যানেলে আছেন মাইক গ্যাটিং, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা (বর্তমান প্রেসিডেন্ট), ইয়ান বিশপ, রডনি মার্শ,

ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, শেন ওয়ার্ন ও সৌরভ গাঙ্গুলির মতো সাবেক আন্তর্জাতিক তারকারা।বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০১৭ সালের অক্টোবরে ক্রিকেটের নীতি নির্ধারনী মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)’র সম্মানজনক ক্রিকেট কমিটিতে জায়গা পান সাকিব।

ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ শুরুটা হয়েছিলো ঠিক দেড় মাস আগে। মে মাসের ৩০ তারিখ। গত চার বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে যে তারা কতটা বদলে গেছে তার প্রমাণ প্রথম ম্যাচেই রেখেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাদের জয়টা এসেছিলো ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে।প্রত্যাশিতভাবেই এমন দাপুটে শুরু করেছিলো ইংল্যান্ড। কিন্তু হায়! দ্বিতীয় ম্যাচেই যেন রঙিন পোশাকে নিজেদের আগের রূপে ফিরে গিয়েছিল তারা।

পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় ১৪ রানে। সে ধাক্কা অবশ্য দ্রুতই কাটিয়ে উঠেছিলো ইংল্যান্ড।পরের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০৬ রানে জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৮ উইকেট ও আফগানিস্তান তাদের কাছে হার মানে ১৫০ রানের বড় ব্যবধানে।

কিন্তু এরপরের ম্যাচেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয় ইংলিশরা।একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় শ্রীলংকার কাছে। তাদের কাছে ২০ রানে হেরে আসর জমিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড।

ঠিক তার পরের ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবারও ৬৪ রানে হেরে গেলে আরও একবার বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কা জাগে তাদের।বাদ পড়ার আগেই ইংলিশ ক্রিকেটারদের নিয়ে শুরু হয় নানা সমালোচনার।

তবে শঙ্কা কাটিয়ে ভারতের বিপক্ষে ৩১ ও নিউজিল্যান্ডের ১১৯ রানের বড় জয়ে সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। শেষ চারে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় প্রথম পর্বে যাদের বিপক্ষে হেরে গিয়েছিল, সেই অস্ট্রেলিয়াকে।

অনেকেই মনে করছিলেন, সেমিফাইনালেও বোধ হয় অসিদের বিপক্ষে জয় পাবে না ইংল্যান্ড। তবে তা আর হয়নি। সেমিতে অসিদের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয়ে ২৭ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে এবারের বিশ্বকাপের স্বাগতিকরা।

নিউজিল্যান্ড: নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রাটা শুরু হয় শ্রীলংকার বিপক্ষে। তাদের ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে কিউইরা তখনই জানান দেয় এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতেই আগমন ঘটেছে তাদের।

পরের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ উইকেটের কষ্টার্জিত জয় পায় তারা।এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়ে সেই ধারাটা ধরে রাখে কিউইরা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

ততদিন পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থানও শক্ত হয়ে যায়। পরের দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ উইকেট ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৫ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে সেমিফাইনাল খেলা অনেকটাই নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।

যে কারণে শেষ তিন ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেট, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৬ রান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৯ রানের বড় হারের পরও পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে থেকে সেমিফাইনাল খেলে কিউইরা।

যেখানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় পুরো আসর জুড়ে দারুণ খেলা উপহার দিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা ভারতকে। অনেকেই ভেবেছিলেন ভারতের সাথে বোধ হয় পেরে উঠবে না তারা।

সেই বিশ্বাস আরও পোক্ত হয় প্রথম ইনিংসে তারা ২৩৯ রানের বেশি করতে না পারলে।তবে শেষ পর্যন্ত কিউই বোলারদের দাপট ও উইলিয়ামসনের বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্বে ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছায় তারা।