বৌভাতের দিন দাফন হলো বর কনেসহ ১১ জনের

বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিলো আজ। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের দিন একসঙ্গে দাফন করা হয়েছে বর কনেসহ ১১ জনকে।

চরঘাটিনা গ্রামে যে বিয়ের মঞ্চে সোমবার বিকেলে বর কনে একসঙ্গে বসে একে অ’পরের সারা জীবনের সঙ্গী হয়েছিলেন, ঠিক সেখানেই ১৩ ঘণ্টা পর কনে সুমাইয়া ফেরেন লা’শ হয়ে।

হাতে লাগানো মেহেদীর রঙ না শুকানোর আগেই নিভে গেল সুমাইয়া-রাজন দম্পতির জীবন প্রদীপ।সোমবার সন্ধ্যায় উল্লাপাড়া উপজে’লার সলপ রেল স্টেশনের উত্তর-পূর্ব পাশে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় কনে সুমাইয়া ও বর রাজনসহ ১১ জন মা’রা যান।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজে’লার কালিয়া কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজন হোসেন উল্লাপাড়ার চর ঘাটিনা গ্রামের মৃ’ত আব্দুল গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে বিয়ে করে মাইক্রোবাসে বাড়িতে ফিরছিলেন।

সুমাইয়ার বাড়িতে তখনও চলছিল বিয়ের আমেজ। বিয়েতে আসা অ’তিথিরা আনন্দ করছিলেন। মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে রেল ক্রসিংয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস মাইক্রোটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় ২০০ মিটার টেনে নিয়ে যায়।

এ সময় সুমাইয়ার সঙ্গে যাওয়া ভাবি মমতা খাতুন, ভগ্নিপতি শরিফুল ইস’লাম ও কনের ছোট বোন বুলবুলিসহ উভয় পক্ষের ৯ জনের ম’র্মা’ন্তিক মৃ’তু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মা’রা যান আরো ২ জন।

আরও পড়ুন: ‘স্বামী নয় জিনে মে’রেছে ৫ সন্তানের জননীকে’ গো’পনে লা’শ দাফন বাঁশখালীতেমঙ্গলবার সকাল ৮টায় সুমাইয়ার লা’শ তাদের বাড়ি পৌঁছে। এ সময় পরিবারের স্বজনদের কা’ন্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

সুমাইয়ার মা মৃ’ত মেয়ের পাশে বসে বারবার একই কথা বলছিলেন, ‘কী পাপ করছি আম’রা, মেয়েটার কপালে আমা’র এই আছিল, আমা’র আর বাঁইচা থাইকা কি হইব!’

মঙ্গলবার ভোরে সিরাজগঞ্জ জে’লা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের ম’র্গ থেকে ম’রদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বেলা ১১টায় চর ঘাটিনা কবরস্থানে জানাজা শেষে সুমাইয়া ও তার স্বজনদের ম’রদেহ দাফন করা হয়।