৭ ঘণ্টা পর ছেলে ধ’রাদের কাছ থেকে যেভাবে ফিরল ৫ শ্রেণির ছাত্র

নরসিংদীর পলা’শে ছেলে ধ’রা লোকের হাত থেকে নিজ প্রচেষ্ঠায় ৭ ঘন্টা পর কালিগঞ্জ থেকে ফিরে আসল পলা’শের সিয়াম (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র। সিয়াম উপজে’লার চরসিন্দুর ইউনিয়নের ৯ নং বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ শ্রেণির ছাত্র।

সে ওই ইউনিয়নের কাউয়াদি গ্রামের আমজাদ মিয়ার ছেলে। আমজাদ মিয়া বালিয়া বাজারে একটি চা স্টলের দোকানদার।ঘটনার সত্যতা জানতে ভোক্তভোগী ছিয়ামের সাথে কথা বলে জানা যায়,

গত ২০ জুলাই শনিবার সকাল ৬ টার দিকে সিয়াম প্রাইভেট পড়তে বাড়ী থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় অ’পরিচিত তিনজন মধ্য বয়সী লোকের মাথায় কালো ক্যাপ,মুখে কালো মা’র্ক্রস পড়–য়া একটি হলুদ রংঙ্গের গাড়ি থামিয়ে তার মুখে রুমাইল চেপে ধরে তাকে অচেতন করে ফেলে।

দুই ঘন্টা পর তার জ্ঞান ফিরলে সে দেখতে পায় ঘোড়াশাল সেতু পার হয়ে গাড়ী থামিয়ে গাড়ী থেকে নেমে দুইজন মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলছে আর একজন ড্রাইভারের সিটে বসে আছে।

এ সময় সিয়াম কৌশলে অ’পহরণকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে দৌঁড়ে ঘোড়াশালের রাস্তার দিকে ছুটে আসতে থাকে। পথিমধ্যে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানালে পলা’শ আসার সিএনজিতে তারা তাকে উঠিয়ে দেয়।

পরে পলা’শ সিএনজি স্ট্র্যান্ডে পৌঁছে তার বাবাকে সে দেখতে পায়। এ ঘটনায় ছিয়ামের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, সকাল ৮টার দিকে তার সাথে প্রাইভেট পড়া অন্য বন্ধুরা এসে বাড়ীতে খবর দেয় ছিয়াম নাকি প্রাইভেট পড়তে যায়নি।

বিষয়টি সন্দেহ জনক মনে হলে বাড়ী থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে সিয়ামকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকি। কিছুক্ষণ পর রাস্তার পার্শ্বে তার বই, খাতা,কলম পরে থাকতে দেখি।

এ দিকে দেশবন্ধু সুগার মিলে কর্ম’রত কিছু শ্রমিক এই রাস্তা দিয়ে সকালে যাওয়ার পথে নাকি এইখানে একটি হলুদ রংয়ের একটি প্রাইভেট কার দাঁড়ানো ছিল দেখতে পায়।

পরে আমি ও আমা’র ভাই এক সাথে তাকে খুঁজতে পলা’শ উপজে’লার বিভিন্ন যায়গায় খুঁজে পলা’শসিএনজি স্ট্যান্ডের কাছিকাছি গিয়ে দীর্ঘ সাত ঘন্টা পর তাকে দেখতে পাই। পরে ঘটনার বিস্তারিত তার মুখ থেকে জেনে পলা’শ থানায় এই বিষয়ে অবগত করি ও তাকে ডাক্তার দেখাই।

তার বুকের মাঝে কিল ঘুষি আ’ঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্কুলছাত্ররা এ ব্যপারে পলা’শ থানার ওসি ত’দন্ত গোলাম মোস্তফা বলেন, আপনারা যা শুনেছেন আম’রা তা-ই শুনেছি। ওই ছেলে কার ও নাম ঠিকানা বলতে পারছে না। তারপরেও বিষয়টি ত’দন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরনাহার বেগম বলেন, সিয়াকে কে বা কারা ধরে নিয়ে গেছে শুনার পর সাথে সাথে আমা’র উর্ধতন কর্মক’র্তাকে এ বিষয়ে অবগত করি।

এ দিকে বিগত কয়েক দিন ধরে পলা’শ উপজে’লায় সর্বত্র ‘ছেলে ধ’রা’ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছেলে ধ’রা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে নাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শি’শু-কিশোরদের তুলে নিয়ে হ’ত্যা করে মাথা কে’টে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজবে ছড়িয়ে পড়েছে উপজে’লার সর্বত্র।

এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অ’ভিভাবক মহল। প্রাই’মা’রি স্কুল ও কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোতে সতর্কতা করা হচ্ছে অ’ভিভাবকদের। ছেলে ধ’রা আতঙ্কে গ্রামের শি’শু-কিশোররা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

গত কয়েকদিনে জে’লার বিভিন্ন এলাকায় ছেলে ধ’রার খবর পাওয়া গেলেও শুধু পলা’শ উপজে’লার সিয়ামের ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী দাবি করছে, ছেলে ধ’রার ঘটনা ঘটেছে। তবে কাউকে নিতে পারেনি।

কাউকে আ’ট’কও করা যায়নি। তবে প্রশাসন বলছে, এটা নিছক গুজব। এদিকে, পলা’শে অ’পরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়ছে ভিক্ষুক-ফেরিওয়ালা। অ’পরিচিত কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে গৃহস্থরা ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

নরসিংদী জে’লার কোথাও না কোথাও শি’শু ধরে নিয়ে গেছে এমন গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মাঝে। প্রায় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ছেলে ধ’রার খবর আসছে।

তবে ঘটনা অনুসন্ধান করতে গেলে স্কুল ছাত্র ছিয়ামের ঘটনা বাদে কোথাও এমন ঘটনা ঘটেছে- এখন পর্যন্ত তার সুনির্দিষ্ট কোনো সত্যতা মিলছে না। এ ব্যপারে জানতে চাইলে পলা’শ উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা রুমানা ইয়াসমিন জানান,

এ বিষয়ে আমি তো কিছুই জানি না। আগে খবর নেই তার পরে। আমি জয়েন সেক্রেটারি স্যারের সাথে আছি পরে কথা বলব।

সূত্রঃ-zoombangla