অন্ধকার রাতে ঢাকার ম্যানহোল থেকে শো শো শব্দ!

সাকিব রাজ। কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। শনিবার (২৪ আগস্ট) এক বন্ধুকে নিয়ে রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকে আরেক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি।

পথেই শেখেরটকের ৮ নাম্বার রোডে ম্যানহোলের ভেতর থেকে অনেক জোরে শো-শো শব্দ শুনতে পান।সাকিব রাজ বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, শব্দটা কিসের? বন্ধু জানালো,

ম্যানহোলের ভেতর থেকে প্রায়ই এ রকম শব্দ শোনা যায়। এরপরই কৌতুহলবশত ম্যানহোলের ঢাকনার কাছে গেলেন সাকিব। কিন্তু ভেতরে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।এরপর ম্যানহোলের ঢাকনার মুখে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ধরেই লক্ষ্য করলেন,

সে জায়গার পানি অনেক জোরে উপরের দিকে উথলে উঠছে। এরপরই নিশ্চিত হলেন, গ্যাসের লাইনের পাইপে সমস্যা।লক্ষ্য করলেন, এত জোরে গ্যাস বের হচ্ছে, যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

এরপর জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করলেন সাকিব। ৯৯৯ থেকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ফোন নাম্বার দেয়া হলো।এরপর তিতাসে ফোন দিলেন সাকিব।

ফোন দেয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির তিতাসের টিম। কাজ করে গ্যাস লাইনটি মেরামত করে দিলেন তারা। আর একটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে পাওয়া গেল মুক্তি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাকিব রাজ বিডি২৪লাইভকে বলেন, কাজ চলাকালীন ওই এলাকার অনেক মানুষ দেখছিল। তারা জানাল, প্রায় ১ মাস থেকে এখানে গ্যাস বের হওয়ার শব্দ শোনা যায়।

এতে আমি অবাক হয়ে যাই। কেউ অভিযোগ করার প্রয়োজন মনে করেনি?তিনি বলেন, শুরুতে ম্যানহোলের ভেতরে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট দিয়ে দেখার সময় রাস্তার অনেক মানুষ মজা করছিল।

তবুও দায়িত্ববোধ থেকেই কাজটি আমি করেছি। এতে একদিকে গ্যাসের অপচয় রোধ হলো অন্যদিকে বড় রকমের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেল।তিনি আরও বলেন, একটু সচেতন ও দায়িত্বশীল হলেই এরকম অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যে যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসুন। সমালোচনা করার আগে নিজে উদ্যোগী হন। কোথাও কোনো সমস্যা দেখলে এড়িয়ে না গিয়ে অভিযোগ করুন।

অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের সামাজিক দায়িত্ব পালন করুন।এ সময় তিতাস গ্যাস এবং জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ৯৯৯ এর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান সাকিব রাজ।