ভাইয়ের সঙ্গে মৃত্যুর আগে যা বলেছিলেন সেই নারী ব্যাংকার

সোমবার (২৬ আগস্ট) ১২টা ৩৩ মিনিট। প্রতিদিনের মত ঢাকার উত্তরায় প্রাইম ব্যাংকের কার্যালয়ে নিজ ডেস্কে কাজ করছিলেন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার গহর জাহান।

কাজের ফাঁকে হয়তো একবারও ভাবেননি ২ মিনিট পর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে তাকে।ব্যাংকের একজন নারী গ্রাহক সেবা নিচ্ছিলেন গহর জাহানের ডেস্কে।

ওই গ্রাহক তার ব্যাগ থেকে একটি রশিদ বাড়িয়ে দেন। গ্রাহকের রশিদ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গহর জাহান।ঠিক ৩৪ সেকেন্ড পর অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন তিনি।

ওই সময় কপাল, গাল, নাক-মুখ ও চোখে হাত দিতে দেখা যায় তাকে। অস্বস্তির মাত্রা তীব্রতর হতে থাকে গহরের। বার বার কপালে হাত দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সামনে থাকা ওই নারী গ্রাহক গহর জাহানের অসুস্থতার বিষয়টি একদমই খেয়াল করছিলেন না।

এর মধ্যে পাশে রাখা গ্লাস থেকে তিনবার পানি পান করেন তিনি।এরপর ঠিক ১২টা ৩৫ মিনিটে আরেকবার পানি পানের সময়ই মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে যান গহর জাহান। সে সময়ই তার মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়।

টেবিলে মাথা রেখে নুয়ে পড়ে গহর। সঙ্গে সঙ্গে সামনে বসে থাকা নারী তার মাথায় হাত দিয়ে অন্য সহকর্মীদের ডাকতে থাকেন। তখন তার সহকর্মীরাও জড়ো হন।কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই পরপারে চলে যান গহর।

অন্যান্য কর্মকর্তারা তখনও বুঝেননি তিনি আর নেই। তারা তাকে সোজা করে চেয়ারে বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চেয়ার থেকে নিচে পড়ে যান গহর জাহান।এরপর কিছু সহকর্মীরা ছুটে এসে তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন।

পুরো অফিসে তখন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সহকর্মীরা প্রাণপণে চেষ্টা করতে থাকতে থাকেন গহর জাহানকে সুস্থ করে তোলার।পরে ১২টা ৪৭ মিনিটের দিকে তাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন কয়েকজন সহকর্মী।

গণমাধ্যমকে গহর জাহানের বড় ভাই মারুফ নেওয়াজ বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

গহর জাহানের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী শহরের মহিষবাথান এলাকায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে লেখাপড়া করে ২০০১ সালে চাকরিতে যোগ দেন।৪৪ বছর বয়সী গহবর বিয়ে করেননি।

অনার্সে থাকতেন হয়েছে তার ওপেন হার্ট সার্জারী। ফলে দেখতে সুশ্রী থাকা সত্ত্বেও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেননি তিনি। ৫ ভাই তিন বোনের মধ্যে বোনদের সবার ছোট ছিল গহর।

থাকতেন ভাইদের সাথেই।গহরের ছোট ভাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. মারুফ নাওয়াজ বলেন, ঘটনার দিন সকালে আমার স্ত্রীর সঙ্গে একত্রে নাস্তা করেছিলেন আপু।

এসময় গহর বলেন, ‘আমার বাচ্চারা কই। আজ আমার মিটিং আছে একটু আগে যেতে হবে। তোমরা ভালো থেকো’। এটাই ছিল আমাদের সঙ্গে তার শেষ কথা।এদিকে গহর জাহানের মৃত্যুর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

ভিডিওটি দেখার পর অনেকেই সমবেদনা জানিয়েছেন। হঠাৎ এমন করে মৃত্যু গহরের পরিবারেও এনে দিয়েছে শোক।