তামিম জয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিং এ দ্বিতীয় দিন শেষে দেখেনিন বাংলাদেশের স্কোর

বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অলআউট হয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম দিনে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রানে দিন শেষ করার পর কুশল মেন্ডিস জানিয়েছিলেন প্রথম ইনিংসে ৫০০ রান ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

তবে বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ জানিয়েছিলেন প্রথম ইনিংসে লঙ্কানদের আটকানোর পরিকল্পনা রয়েছে ৪০০ রানের মধ্যে। সেই পরিকল্পনার শতভাগ বাস্তবায়ন যেন করে দেখিয়েছেন সাকিব-নাইমরা।

প্রথম দিনে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ফিরে যেতে পারতেন। তবে খালেদ আহমেদের করা বল ম্যাথিউসের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হলেও কেউ আবেদনই করেনি! ফলে ব্যক্তিগত ১১৯ রানে জীবন পেয়ে ম্যাথিউস স্কোর বড় করতে থাকেন।

আগের দিনে ২ উইকেট তুলে নেয়া নাইম হাসান দ্বিতীয় দিনে এসেও দেখিয়েছেন স্পিনঘূর্ণি। দিনের প্রথম সাফল্য আসে নাইমের হাত ধরেই। ৬৬ রান করা দীনেশ চান্দিমালকে নাইম এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন নাইম। একই ওভারে নিজের চতুর্থ শিকারের দেখাও পান এই স্পিনার। দলীয় ৩২৩ রানের মাথায় নিরোশান ডিকভেলাকে ব্যক্তিগত ৩ রানেই সাজঘরের পথে হাটতে বাধ্য করেন নাইম।

নাইমের জোড়া আঘাতের পর পিছিয়ে থাকেননি সাকিব আল হাসানও। আগেরদিন ১ উইকেট পাওয়া সাকিব দ্বিতীয় দিনে এসে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন রমেশ মেন্ডিসকে। ৮ বল মোকাবেলায় ১ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় রমেশ মেন্ডিসকে। এই উইকেট তুলে নেয়ার পরের বলেই আবারও আঘাত হানেন সাকিব। লাসিথ এম্বুলডেনিয়াকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান সাকিব। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

একপ্রান্ত আগলে রেখে প্রথম দিন থেকে ব্যাটিং করে যয়ায়া অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের সাথে অবশ্য মাটি কামড়ে পরে থাকার চেষ্টা করেন বিশ্ব ফার্নান্দো। একপ্রান্তে দেখেশুনে ম্যাথিউস যখন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন অপরপ্রান্তে বিশ্ব ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন টাইগার বোলারদের।

অবশ্য সুযোগ এসেছিল বিশ্বকে ফেরানোর। তবে সাকিবের বলে মুশফিকুর রহিম বিশ্বর ক্যাচ মিস করলে জীবন পান তিনি। জীবন পেয়ে স্কোর বড় করার সুযোগটা পাননি বিশ্ব। পেসার শরিফুলের বলে আঘাত পেয়ে ব্যক্তিগত ১৭ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে।

লঙ্কানদের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন নাইম হাসান। ১৯৯ রান করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে লঙ্কানদের অলআউট করে দিয়ে ইনিংসের ইতি ঘটান ৩৯৭ রানে।

বল হাতে ১৫ মাস পর মাঠে ফিরে ১০৫ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন নাইম। এছাড়া ৬০ রানে সাকিব ৩টি ও তাইজুল ইসলাম নিয়েচেহ্ন ১টি উইকেট।

লঙ্কানদের করা ৩৯৭ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে কিছু সময় ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন তামিম ইকবাল এবং মাহমুদুল হাসান জয়।

তামিম কিছুটা আগ্রাসী শুরু করলেও মন্থর গতিতে শুরু থেকেই ব্যাট চালিয়েছেন জয়। এই দুই ব্যাটার কোনো বিপদ না ঘটিয়েই শেষ করেছেন দ্বিতীয় দিনের খেলা। ১৯ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ থেমেছে ৭৬ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা পিছিয়ে রইল ৩২১ রানে। ক্রিজে তামিম অপরাজিত আছেন ৩৫ রান নিয়ে এবং জয় অপরাজিত আছেন ৩১ রান করে।