শিপ্রার নতুন আরেকটি ভিডিও ভাই’রাল (ভিডিও)

সম্প্রতি সময়ে সব থেকে আ’লোচিত এবং সমালোচিত বিষয় হলো মেজর সিনহার ঘটনা। পু’লিশের হাতে নি’/হ’/ত হবার পর থেকেই তার এই ঘটনা নিয়ে সারা দেশে শুরু হয়েছে বেশ তোলপাড়।

তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে এবার তার সহকারি সেই শিপ্রা নিয়ে শুরু হয়েছে নতু আলোচনা এবং সমালোচনা। কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খান নি’/হ’/ত হওয়ার পর নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চালায় পু’লিশ। অ’ভিযানের পরই সিনহার কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক গায়েব হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

পু’লিশের গু’/লি’/তে সি’ন/’/হার মৃ’/ত্যু’/র পর রিসোর্টে অ’ভিযানের চালিয়ে হিমছড়ি পু’লিশ ফাঁড়ির এসআই শফিকুল ইস’লাম বাদী হয়ে একটি মা’মলা করেন।

মা’মলায় সিনহার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথকে আ’সামি করে মা’মলার জ’ব্দ তালিকায় দুটি ভো’/দ’/কা, তি’/ন’টি ভ্যা’/ট-৬৯ দে’/শি ম’/দ, এক পু’/রিয়া গাঁ’/জা ও পানির বোতলে এক লিটার দেশীয় চো’/লা’/ই ম’/দ দেখানো হয়েছে।

তবে এটাকে সাজানো মা’মলা বলে মনে করছেন অনেকে। শিপ্রার পরিবার বলছে, ওই মা’মলাও একটা ষ’/ড়’/য’/ন্ত্র ছিল। শিপ্রাকে মা’/দ’/ক নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রে’প্তার দেখালেও তার সহকর্মী তাহসিম রিফাত নূরকে ছেড়ে দেয় পু’লিশ। পরে জামিনে কারাগার থেকে ছাড়া পান শিপ্রা।

জানা গেছে, নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চালানোর সময় সিনহার কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক গায়েব হয়ে যায়। পু’লিশের জ’ব্দ তালিকায় তা দেখানো হয়নি।

এদিকে শিপ্রা দেবনাথের সাম্প্রতিক কিছু ভিডিও ও ছবি নিয়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তার ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফাঁ’/স করেছে কারা?

ডকুমেন্টারি তৈরির কাজে শিপ্রা দেবনাথ, তাহসিম সিফাত নূর ও সাহেদুল ইস’লাম সিফাতকে নিয়ে নীলিমা রিসোর্টে এক মাস ধরে অবস্থান করছিলেন সিনহা। কক্সবাজারে পু’লিশের গু’/লি’/তে নি’/হ’/ত সে’নাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানের সঙ্গে তথ্যচিত্র নির্মাণে যু’ক্ত থাকা শিপ্রা দেবনাথের ’চ’/রি’/ত্র হ’/ন’/নে’/র’ চেষ্টা চলছে বলে অ’ভিযোগ করেছে তার পরিবার।

দুই বছর আগে সে’নাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানের স্বপ্ন ছিল বিশ্বভ্রমণ। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে গিয়ে তার সঙ্গে শিপ্রার পরিচয়, বন্ধুত্ব; সেখান থেকেই ’জাস্ট গো’ নামের ট্র্যাভেল ডকুমেন্টারি তৈরির পরিকল্পনা শুরু।

এর ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে চারজনের একটি দল। সিনহা আর শিপ্রার সঙ্গে এই দলে ছিলেন সাহেদুল ইস’লাম সিফাত আর তাহসিন রিফাত নূর। জুলাইয়ের শুরুতে তাদের এই দলটি কক্সবাজারে গিয়ে ডকুমেন্টারির জন্য কাজ শুরু করে। কিন্তু ৩১ জুলাই রাতে মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া চেকপোস্টে পু’লিশের গু’/লি’/তে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মৃ’/ত্যু বদলে দেয় সব।

সিনহাকে গু’/লি ক’রে হ’/ত্যা’/র ঘটনার সময় তার গাড়িতে থাকা রিফাতকে গ্রে’প্তারের পর শিপ্রাকে ধরতে নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চালায় পু’লিশ। এসময় ম’/দ উ’দ্ধার দেখিয়ে মা’মলা করে পু’লিশ।

তবে রিসোর্টে ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক থাকলেও পু’লিশের জ’ব্দ তালিকায় তা দেখানো হয়নি। সেই ল্যাপটপে যেসব ছবি ও ভিডিও ছিল সেসবই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিপ্রা ও তার ছোট ভাই শুভজিৎ কুমা’র দেবনাথ।

ভা’রতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় আইআই’এসটিতে অধ্যয়নরত শুভজিৎ বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক মাধ্যমে তার বোনকে টার্গেট করে একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে।

শিপ্রার ব্যক্তিগত চ’/রি’/ত্র’/হ’/ন’/নে’র’ চেষ্টাও চলছে। শুধু ভু’য়া আইডি নয়, প্রশাসনের অনেকে নিজের আইডি থেকেও শিপ্রাকে আক্রমণ করছে। সামাজিক মিডিয়ায় কারও কারও আচরণে আম’রা ম’/র্মা’/হ’/ত।

এদিকে মা’/দ’/কে’/র মা’মলায় শিপ্রার কারামুক্তির পর সিনহার ’জাস্ট গো’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে যে ভিডিওটি প্রকাশ হয়েছিল সেটি তিনি নিজেই ডিলিট করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিপ্রা।

তিনি বলেন, সিনহা ভাই নি’হতের পর অনেকে নকল ডকুমেন্টরি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে ’জাস্ট গো’ নামে প্রচার করছিল। ভাবলাম আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই গুগল ড্রাইভে থাকা আসল ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করি সবাইকে জানাতে।

যখন দেখলাম মানুষ এটা ভালো’ভাবে নেয়নি, তখন ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা ডিলিট করে দিয়েছি। অনেকে ধারণা করেছিল এটা আমা’র ব্যবসা ছিল, আবার অনেকে আমাকে ভুল বুঝেছিল। তাই তাদের সম্মান জানিয়ে ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলেছি, যোগ করেন শিপ্রা।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা বলেন, আমি সাধারণ মে’য়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কারও আচরণে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। আর সিনহা ভাই ও আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তার বিচার দেখে যেতে চাই। প্রয়োজনে ন্যায় বিচারের স্বার্থে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অ’পেক্ষা করব।

শিপ্রার ভাই শুভজিৎ বলেন, জাস্ট গো ডকুমেন্টারিতে সিনহার মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়েছেন শিপ্রা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়ত অনেকেই তার হাসিমাখা মুখ ভালো’ভাবে নেয়নি।

এমনকি একজন পু’লিশ সুপারও তার আইডি থেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করেছে। এটা করার পেছনে অবশ্যই অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে। হঠাৎ কেন তারা শিপ্রার ব্যক্তিগত বিষয় সামনে আনবেন? সত্যকে আড়াল করে অন্য কিছু প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হিসেবেই তারা এমনটি করছেন বলে আম’রা মনে করছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিপ্রা দেবনাথের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়াকে ’ব্যক্তির ম’র্যাদা ক্ষুন্ন করা’ বলে মনে করছেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

খোঁজ না-পাওয়া ল্যাপটপ-হার্ডডিস্ক থেকে কিভাবে এসব ফাঁ’স হয় তা নিয়ে প্রশ্ন রেখে রিয়াজুল বলেন, যারা সোস্যাল মিডিয়ায় এসব প্রকাশ করছে এগুলো ঠিক না। কারণ কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এসব করা আইনবিরোধী কাজ। প্রতিটা মানুষেরই তো প্রাইভেসি আছে।

যারা ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক নিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে এসব ছবি ও ভিডিও কিভাবে ফাঁ’/স হলো পু’লিশের অবশ্যই ত’দন্ত করে দেখা উচিত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা আজেবাজে কথা লিখছে, তাদেরকেও খুঁজে বের করে শা’স্তির আওতায় আনতে হবে, যোগ করেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান।

কেবল শিপ্রার বেলায় না যে কোনও মানুষের ম’র্যাদা আছে উল্লেখ করে রিয়াজুল বলেন, ব্যক্তির এই ম’র্যাদা ক্ষুন্ন করার অধিকার তো কাউকে দেওয়া হয়নি। যারা ব্যক্তির নিজস্ব অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তারা অ’প’রাধ করছে।

কম্পিউটার, হার্ডডিস্কের তথ্য বাইরে গেল কিভাবে সেটা সরকারের উচিত ত’দন্ত করা। পু’লিশ যদি সেগুলো জ’ব্দ না করে তাহলে সেগুলো কোথায় গেল, কারা নিল, কিভাবে ছবি-ভিডিও প্রকাশ পাচ্ছে তা গুরুত্বের সঙ্গে ত’দন্ত করে দেখা উচিত।

আম’রা জানতে পারছি, এসব ছবি-ভিডিও ওই কম্পিউটারে ছিল। যদি সেখানে থাকা ছবি-ভিডিও প্রকাশ হয় তাহলে পু’লিশকে শা’স্তির আওতায় আনতে হবে। কারণ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এসব ছবি-ভিডিও কম্পিউটারেই ছিল।

এভাবে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় তথ্যপ্রযু’ক্তি আইনে শিপ্রা দেবনাথের মা’মলা করা উচিত বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান।

ছোট কোনও ঘটনা ঘটলেই অ’ভিযু’ক্তকে এই আইনে নিয়ে আসা হয় মন্তব্য করে এলিনা বলেন, এখন তথ্য প্রযু’ক্তি আইন বা ডিজিটাল আইন… প্রতিকার পাওয়ার অনেক কিছু হয়েছে।

শিপ্রা দেবনাথের উচিত সরাসরি আইসিটি আইনে মা’মলা করা। থা’না যদি মা’মলা না নেয়, তাহলে আ’দালতের শরণাপন্ন হতে হবে। ত’দন্ত করে অবশ্যই দেখতে হবে এর পেছনে প্রশাসনের কেউ জ’ড়িত কি-না।

যদি জ’ড়িত থাকে তাহলে শুধু মানহানির মা’মলা নয়, কেন তা প্রকাশ করেছে তাও দেখতে হবে। হঠাৎ করে ব্যক্তিগত এসব ছবি-ভিডিও কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেছে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে, যোগ করেন মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান।

এ দিকে শিপ্রার এই ঘটনাটি নিয়ে একেবারে নতুন করে ফুসে উঠেছে দেশের নেটিজনেরা। অনেকেই আবার শিপ্রাকে নতুন করে গ্রে’ফতারের দাবি জানিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

তবে শিপ্রাকে বরাবরই নি’র্দোষ দাবি করেছেন তার পরিবার। তবে শুরুতে দেশের মানুষ শিপ্রার প্রতি সহানুভুতী দেখালেও বর্তমানে তাকে নিয়ে বেশ চটেছেন তারা।সূত্রঃ-আমাদের সময়