হারোনার চেয়ে বেশি পেয়েছিঃ মিরাজ

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে শেষ ওভারে চার ছক্কা দিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

তাতে জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা ম্যাচে হেরে যায় ফরচুন বরিশাল। এমন হারের পর অনুময়েভাবেই হতাশায় ভুগেছিলেন তিনি। ম্যাচ হেরে যতটা না হারিয়েছেন তার থেকে বেশি পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

প্রথমবারের মতো এমন কঠিন অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি। এমন ম্যাচে হারার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিলেন মিরাজ।

ম্যাচ শেষে কোচ এবং অধিনায়ক তামিম ইকবাল তাকে যেভাবে সাপোর্ট করেছে তাতে তার কখনই মনে হয়নি যে তিনি ব্যাকফুটে আছেন তিনি।

তাদের কাছে থেকে এমন সাপোর্ট পাওয়ায় বেশ খুব বেশি খারাপ লাগেনি তার। গত কয়েকদিনের অনুশীলনেও তাঁকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে।

মিরাজ বলেন, ‌‌’একটা জিনিস দেখেন যে আমি তো সবসময় বলি তামিম ভাই আমাকে সবসময় সাপোর্ট করে গিয়েছে, জাতীয় দলেও অনেক সাপোর্ট করে সবসময় এবং যখন এই টুর্নামেন্ট শুরু করার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে।

যেমন প্রথম ম্যাচ যখন আমরা হেরে গিয়েছিলাম, ব্যক্তিগতভাবে আমি তো আমার বোলিংটার জন্যই হয়তো এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় তামিম ভাই আমাকে সাহস যুগিয়েছে এবং তামিম ভাই আমাকে ভালো কয়েকটি কথা বলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‌’একটা জিনিস দেখেন প্রথম ম্যাচটা হারার পর তো অবশ্যই সবার চেয়ে বেশি খারাপ আমার লেগেছে। আপনারা দেখেছেন এক ওভারে চারটা ছক্কা খেয়েছি ।

আমার নিজের অনুভূতি অনেক খারাপ ছিল। কিন্তু একটা জিনিস ফিল করেছি আমাদের দেশের পেসার যারা আছে ওরা শেষের দিকে বল করে।তাদের ওই মোমেন্টামটা আমি ফিল করার চেষ্টা করেছি।

হয়তো আমার সঙ্গে এমন অবস্থা ঘটেনি। কিন্তু ওদের সিচুয়েশনটা আমি বুঝতে পেরেছি। আমি ওদেরকে বলতে চাই যে। স্পেশালি আমাদের দেশের পেসার যারা আছে সোয়াগে বল করে। ওদের ওপর আমার রেসপেক্টটা বেড়ে গেছে।’

প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে মিনিস্টার রাজশাহীর বিপক্ষে জয় পেয়েছে বরিশাল। বোলারদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তামিমের ব্যাটিং ছিল দলের জয়ের অন্যতম কারণ।

এদিন অবশ্য ভালো বোলিং করেছেন এই অফস্পিনার। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য সতীর্থদের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‌’যেটা আমার আত্মবিশ্বাস আমি যে রকম প্রথম ম্যাচটা খেলার পরে যে রকম আত্মবিশ্বাস ছিল বা নিজের ভেতর একটু খারাপ লাগা ছিল হতাশা ছিল।

কিন্তু তামিম ভাই আমাকে যেভাবে সাপোর্ট করেছে এবং কোচও আমাকে যেভাবে সাপোর্ট করেছে। আমি আসলে মনে হয়নি আমি ব্যাকফুটে ছিলাম।

আমার কাছে ভালোই লেগেছে তাদের কন্ট্রিবিউশনটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য।’ দ্বিতীয় ম্যাচে কামব্যাক করার কৃতিত্ব তামিম ও কোচকে দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘কামব্যাক করার কথা যেটা বললেন। আমাদের কোচ থেকে শুরু করে তামিম ভাই আমাকে অনেক হেল্প করেছে। উনি আমাকে একটা কথাই বলেছে আমি তোর ওপর কোনো মাইন্ড করিনি।

এবং আমি তোর ওপর হতাশ না। আমি জানি তুই কী করতে পারিস। তুই প্রমাণ করে এসেছিস। এবং সে প্রমান করার জায়গা হচ্ছে এখানে। ভালো করতে হবে।

তুই যত তাড়াতাড়ি কামব্যাক করতে পারবি। তখন তোকে নিজেকে তুই নিজে চিনাতে পারবে যে না তুই আগে ভালো বল করে এসেছিস বিগত ম্যাচ এবং দিনগুলোতে।’