আশুলিয়ায় নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে একজন গ্রেপ্তার

ঢাকার আশুলিয়ায় নারী পোশাককর্মীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে আদালতে পাঠানো হয় বলে আশুলিয়া থানার এসআই ইউনুস আলী জানান।

গ্রেপ্তার মোফাজ্জল হোসেন (৩৫) নেত্রকোণার বারহাট্টা থানার দেওপুর গ্রামের আব্দুল মান্নাফের ছেলে। আশুলিয়ার জিরাবো বাগানবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে চাকরি করেন মোফাজ্জল।এসআই মামলার নথির বরাতে বলেন, ২২ বছর বয়সী এই নারীর প্রতিবেশী মোফাজ্জল।

শুক্রবার বিকালে এই নারী গোসল করার সময় গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন মোফাজ্জল; তারপর রাতে সেটাপ্রকাশের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।সকালে ওই নারী পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে আদালতে পাঠনো হয়। তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানান এসআই ইউনুস আলী।

আরও পড়ুন= পড়ুন= আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রায় ৫৮ হাজার পশু প্রস্তুত করেছেন এখানকার খামারিরা। এবার এ উপজেলায় কোরবানির পশুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার। উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় তিন শতাধিক ছোট বড় খামারে এসব গরু প্রস্তুত রয়েছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাইরের উপজেলাগুলোতেও পাঠানো যাবে এসব পশু।এদিকে গো-খাদ্যের চড়া দাম ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গড়া এসব খামারের মালিকরা বলছেন,

উপযুক্ত দাম না পেলে তাদের লোকসান গুনতে হতে পারে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্র জানায়, কোরবানিকে ঘিরে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা এবার ৫৭ হাজার ৬৮০টি গরু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৪৫৭টি ষাঁড় ও বলদ, এক হাজার ৩৪০টি গাভী, পাঁচ হাজার ৪৯২টি মহিষ, ছয় হাজার ৬৮৫টি ছাগল ও তিন হাজার ৭০৬টি ভেড়া রয়েছে। পশু কেনাবেচার জন্য উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ৩১টি স্থায়ী-অস্থায়ী বাজার রয়েছে।জানা গেছে, প্রতি বছর কোরবানি সামনে রেখে উপজেলার খামারি ও কৃষকরা গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত থাকেন। গত তিন বছর ভারত থেকে পশু কম আমদানি হওয়ায় দেশি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। খামারিরা ভালো লাভও করেছেন। তাই এ বছরও দেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ বছর ভারতীয় গরু আসা বন্ধ থাকলে তারা বেশ লাভবান হবেন এমনটাই আশা তাদের।

উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ৩১টি হাটের মধ্যে মিরসরাই বাজার, বড় তাকিয়া, মিঠাছরা, জোরারগঞ্জ, বারইয়ারহাট, আবুতোরাব গরুরবাজার বেশ বড়। এসব বাজারে বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা গরু কিনতে আসেন। তারা গরু কিনে ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। এ ছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকার কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু কিনে তা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমানে এ উপজেলার প্রায় তিন হাজার খামারি, কৃষক ও বেপারি এ পেশায় নিয়োজিত। খামারি ছাড়াও উপজেলার সাধারণ কৃষকরা বাড়তি ইনকামের জন্য বাড়িতে একটি দুটি করে গরু মোটাতাজা করেন। ঈদের সময় আকার ভেদে গত বছর প্রতিটি গরু ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তারা।জানা গেছে, এবার কোরবানির জন্য সবচেয়ে বেশি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের তাজপুরে অবস্থিত দিদার এগ্রো ফার্মে। এ ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন দিদার বলেন, কোরবানির জন্য আমার খামারে ছোট-বড় ১৫০০ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রিও শুরু হয়েছে। অনেকে গরু পছন্দ করে বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার ১২টি গরু বুকিং হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার খামারে স্ব-পরিবারে এসে গরু পছন্দ করে কেনার সুযোগ রয়েছে। গরু এখন কিনলেও ক্রেতা ঈদের আগের দিন অথবা ঈদের দিন গরু নিয়ে যেতে পারবেন।

এ ছাড়া নাহার ডেইরি ফার্মেও প্রতি বছরের মতো এবার ৫০০ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানির জন্য। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনেও গরু বেচাকেনা করছে। নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, আমাদের ফার্মে জন্ম নেয়া হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুগুলোকে নিয়ম মাফিক নেফিয়ার ঘাস ছাড়াও পুষ্টিকর কাঁচামাল দিয়ে তৈরি ক্যাটেল ফিড খাওয়ানো হয়। এ ফার্মের পশুদের প্রাণঘাতী স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হয় না। তাই পশুগুলো হয় রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের নলখো, ঘোড়ামারা ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ লিংক রোডে অবস্থিত আরেফিন নগরে নাহার ডেইরি ফার্মের গরু রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাহমিনা আরজু জানান, এবার মিরসরাইয়ে প্রস্তুত করা কোরবানির গরু উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে। ভারত বা অন্য জেলা থেকে গরু না এলে এবার খামারিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যায়।