ডমিঙ্গোর ইচ্ছায় উল্টে গেল বিসিবির সিদ্ধান্ত

বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজের খেলারই কথা না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। তরুণদের সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নীতিনির্ধারকরা।

শেষ পর্যন্ত দেখা গেল নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেননি তাঁরা।জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি২০-এর দলে চোটাক্রান্ত নুরুল হাসান সোহানের জায়গায় নেওয়া হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে।

হারারে থেকে ফোনে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন জানান, সিরিজ জিততেই এ সিদ্ধান্ত।অথচ ১০ দিন আগে তিনিই কিনা বলেছিলেন, তরুণ দল নিয়ে খেলে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলেও সমস্যা নেই।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিরিজে ব্যাটাররা টি২০ ক্রিকেটের ইনটেন্ট দেখাতে পারলেই খুশি হবেন তিনি। বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। মাহমুদউল্লাহকে পুনর্বাসন করতে বিসিবির সিদ্ধান্তকে উল্টে দিয়েছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপ থেকেই ছন্দে নেই মাহমুদউল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বে দল ভালো করছিল না। শেষ ১২ ম্যাচের ১১টিতেই হেরেছিল। যে কারণে দল গোছাতে বিকল্প ভাবতে হয় বোর্ডকে।

মাহমুদউল্লাহ এবং মুশফিকুর রহিমকে বিশ্রামে রেখে তারুণ্যনির্ভর দল পাঠানো হয় জিম্বাবুয়েতে। যে দলের নেতৃত্বে ছিলেন নুরুল হাসান সোহান।তার নেতৃত্বে সিরিজের প্রথম টি২০ হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচ জেতে দাপটের সঙ্গে। সোহান ইনজুরিতে পড়ায় মাহমুদউল্লাহকে ফেরানোর উদ্যোগ নেন কোচ। অথচ স্কোয়াডে মেহেদী হাসান মিরাজ রয়েছেন।

শেখ মেহেদীও ব্যাটিং করতে পারেন মিডল অর্ডারে। এই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে মাহমুদউল্লাহকে স্কোয়াডে জুড়ে নেন ডমিঙ্গো।বিসিবি কর্মকর্তারা কোচের এ সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেননি। একজন পরিচালক নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘বিসিবির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করছেন কোচ, যেটা ভালো না।

তিনি পারভেজ হোসেন ইমনকে খেলাচ্ছেন না। যখন খেলাবেই না তখন দলে নিল কেন? সোহানের জায়গায় কেন মাহমুদউল্লাহকেই নিতে হলো?’লিটন কুমার দাস, মুনিম শাহরিয়ার, এনামুল হক বিজয়, আফিফ হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত শীর্ষ পাঁচ ব্যাটার। সোহানের ব্যাটিং অর্ডার ছিল ছয় নম্বরে।

আজকের ম্যাচে সোহানের পজিশনে ব্যাট করবেন মাহমুদউল্লাহ। অথচ এই পজিশনে ‘স্টোক মেকার’ ব্যাটারদের সুযোগ দেওয়া হয়। শেখ মেহেদীর জন্য যেটা আদর্শ।অথচ তাঁকে নামানো হবে আট নম্বরে। সাত নম্বরে খেলবেন মোসাদ্দেক হোসেন। বাংলাদেশ ছাড়া বোধহয় বিশ্বের আর কোনো দল টি২০ ক্রিকেটে সাতজন ব্যাটার নিয়ে খেলে না। কোচ ডমিঙ্গোর এমন রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।ডান-বাঁহাতি ব্যাটার খেলানোর সংস্কৃতি তাঁর।

বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কৌশল পছন্দ ডমিঙ্গোর। টি২০ বিশ্বকাপে যেটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে জেতা ম্যাচ হেরে গেছে বাংলাদেশ।কোচের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই রক্ষণাত্মক অধিনায়ক হয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। অথচ শুরুর দিকে তাঁকেই আক্রমণাত্মক নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।

জাতীয় দলের একজন সদস্য জানান, বোলিংয়েও পছন্দ-অপছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেন কোচ।যে কারণে বাজে বোলিং করেও নিয়মিত খেলার সুযোগ পান পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। কারণ ব্যাক করার সংস্কৃতি বজায় রাখতে সিনিয়ররা প্রভাব খাটান। গুঞ্জন আছে, চাকরি বাঁচাতে কোচও সেটা মেনে নেন। সে যাই হোক, বিসিবি কর্মকর্তারা চিন্তা করছেন দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে।সেখানে সিনিয়র ক্রিকেটাররা লড়াই করছেন দলে টিকে থেকে ক্যারিয়ার আরও কিছুটা লম্বা করতে। কোচও দেখছেন সিনিয়রদের সঙ্গে মিলমিশ করে চললে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরিটা চালিয়ে যেতে পারবেন।