আফিফকে আফিফের মতো থাকতে দিতে বলছেন তামিম

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে আফিফ হোসেনকে নিয়ে এক সংবাদকর্মীর প্রশ্নটা ছিল এমন, ‘আমরা একটা সময় রিয়াদ ভাইকে বলতাম “ক্রাইসিস ম্যান”,

শেষে টেলএন্ডারকে নিয়ে খেলা, বড় ইনিংস গড়া, আফিফ মনে হয় সে ভূমিকাটা পালন করতে পারছে। এখানে (ব্যাটিং পজিশন) খেলা অনেক কঠিন।

হয়তো শতক পাওয়া যায় না, কিন্তু ৪০ বা ৬০ রানও দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আফিফকে কেমন দেখছেন?’তামিম ইকবাল এই প্রশ্নের উত্তরে যেন ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করলেন।

আফিফকে নিয়ে আবেগে ভেসে যাওয়া নয়, তাঁকে নানা পদের তকমা দিয়ে প্রত্যাশার পাল্লাটা এখনই তাঁর ওজনের চেয়ে ভারী করতে নিষেধ করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

আফিফকে নিয়ে তামিমের ভাবনা অনেকটাই এমন, আফিফকে আফিফের মতো থাকতে দিন।তামিমের বার্তা যে এমন, সেটা বোঝা গেল তাঁর উত্তরেই, ‘তাকে এখনোই কোনো নাম দেবেন না।

সেটা একটু দ্রুতই হয়ে যায়। তার মধ্যে এমন অনন্য গুণ আছে, যা খুব বেশি মানুষের মধ্যে নেই। আজকের ম্যাচ কিংবা দ্বিতীয় ম্যাচটাই যদি দেখেন, আমরা চাপে ছিলাম।

কিন্তু সে (ব্যাটিংয়ে) এসেই ম্যাচটা প্রতিপক্ষের মুঠো থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’বাংলাদেশ দল আজ তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১২০ রান থাকতে আফিফ উইকেটে আসেন।

বাংলাদেশ এরপর ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৫৬ রানের যে সংগ্রহ পেয়েছে, তাতে দুর্দান্ত ভূমিকা আফিফের ৮১ বলে ৮৫ রানের অপরাজিত ইনিংসের। আফিফ বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে বাংলাদেশ আড়াই শ রানের সংগ্রহ পেত কি না সন্দেহ! দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ৪০ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন আফিফ।

ব্যাটিং অর্ডারে ছয় নম্বর পজিশনে আফিফের মতো ব্যাটসম্যানদের ঝুঁকিটাও স্মরণ করিয়ে দিলেন তামিম, ‘একটা বিষয় কি, এ ধরনের খেলোয়াড় অনেক সময় একই কাজ (খেলার ধরন) করতে গিয়ে আউট হয়ে যাবে। তখন আমরা কিংবা আপনারা হয়তো বলাবলি করব, এটা কী করল! আমি চাই না সে তার এই গুণটা হারাক, সে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে চায় এবং এটা দারুণ একটা গুণ। আমি জানি সে খুব ভালো একটা ক্যারিয়ার গড়বে, তবে এখনই তাকে কোনো নাম দেওয়াটা একটু তাড়াহুড়া হয়ে যায়।’