বাংলাদেশের টি-২০ দলের অধিনায়কের নাম ঘোষণা করলো বিসিবি

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আজ বিকেলেই জানিয়ে দিয়েছেন লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান এবং ইয়াসির আলী রাব্বি- বাংলাদেশ দলের এই তারকা তিনজনই ইনজুরিতে।

তাই তাদেরকে বাদ দিয়েই এশিয়া কাপের স্কোয়াড গঠন করতে হচ্ছে। সেটা একটু মুশকিল।সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও পাপনের মত একই কথা জানালেন।

তার ব্যাখ্যা, ‘সোহান, লিটন এবং রাব্বির সুস্থ হয়ে উঠতে আরও অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগবে। এ কারণে তাদের এশিয়া কাপ স্কোয়াডে থাকার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়।’

তাহলে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন কে? সাকিব আল হাসান নাকি অন্য কেউ? দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে,

বিসিবি সভাপতি জানিয়ে দেন, বেটিং কোম্পানিংর সঙ্গে চুক্তি বাতিল না করলে তো সাকিবের প্রশ্নই আসে না। আর চুক্তি বাতিল করে ফিরলেও তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কি না সে বিষয়টা স্পষ্ট করেননি পাপন।শুধু এটুকু জানিয়েছেন, অধিনায়কত্ব নিয়ে তারা চাপে নেই।

সে সঙ্গে এটাও বলেছেন, ‘সামনে বিশ্বকাপ আছে, দেখি আমাদের টিম কম্বিনেশন কি হয়! মনে করলাম একটা ছেলেকে দিব, ও যদি স্কোয়াডেই না থাকে, এটা শুধু সাকিব না…, তাহলে ওকে দিয়ে লাভ হল কি অধিনায়কত্বটা? তার তো কোনো মানে হল না। আমরা এখন টিমটা ঠিক করবো সেটার জন্য আমরা একটা দিন সময় নিচ্ছি।

আজকে না করে আগামীকাল দলটা জানিয়ে দেওয়া হবে।’তবে, বেটউইনারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিজেকে উজাড় করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিসিবিতে সাকিব আল হাসান চিঠি পাঠানোর পর পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে পাল্টে গেছে। বিসিবি সভাপতিও জানিয়ে দিয়েছেন, দল ঘোষণা করা হবে শনিবার।

তার আগে তিনি সাকিবের সঙ্গে কথা বলতে চান। ব্যাখ্যা জানতে চান, বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেন চুক্তি করেছে? সে বৈঠকে কী মিষ্টি করে শাসনও করে দেবেন না বিসিবি সভাপতি! বুঝিয়ে বলবেন না, বিশ্বকাপ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন্সিটা চালিয়ে নিতে!জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। দুই ম্যাচে ক্যাপ্টেন্সি করার পর হাতের আঙ্গুল ফ্র্যাকশ্চার হওয়ায় সোহানের পক্ষে আর খেলা সম্ভব হয়নি।

যদিও তিনি আশায় ছিলেন, এশিয়া কাপ দিয়েই ফিরবেন দলে।কিন্তু তার সর্বশেষ ইনজুরির আপডেট হলো নেতিবাচক। তাই সোহান অধিনায়ক হচ্ছেন না অনিবার্য্যভাবেই। তার জায়গায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে দল পরিচালনা করা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত কী তাহলে এশিয়া কাপে অধিনায়কত্ব করবেন? নাকি বেটউইনার নিউজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা সাকিবকেই দেয়া হবে অধিনায়কের গুরু দায়িত্ব? তা নিয়ে রাজ্যের জল্পনা-কল্পনা।ভক্ত, সমর্থক ও অনুরাগীরা উন্মুখ তা জানতে। বিসিবির ভাবনা কী?

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধান জালাল ইউনুস আনুষ্ঠানিকভাবেই আজই (বৃহস্পতিবার) অধিনায়কের নাম জানাতে চান না। তার বক্তব্য, ‘অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হবে আগামী শনিবার। এরআগে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়কের নাম বলা সমীচিন হবে না।’তবে জালালের কথায় কিছুটা ইঙ্গিত মিলেছে। বোঝা গেছে সাকিবকেই করা হবে অধিনায়ক। সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে যার নাম আসতো সবার আগে, সেই নুরুল হাসান সোহান যেহেতু দলেই থাকবেন না, তাই তার অধিনায়ক হবার প্রশ্নই আসেনা।

এশিয়ার কাপের মত বড় আসরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের কাঁধে অধিনায়কের গুরু দায়িত্ব অর্পনের সম্ভাবনাও খুব কম। আর অধিনায়ক হয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে সৈকতের পারফরমেন্সও ভাল ছিল না। তাই অধিনায়কের অপশনও গেছে কমে। সে কারণেই ভাবা হচ্ছে সাকিবকেই করা হবে অধিনায়ক।এদিকে আজ বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান নির্বাচক নান্নু জানান, নির্বাচকরা আগামীকাল শুক্রবার এশিয়া কাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত করতে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বৈঠকে বসবেন।অধিনায়ক মনোনয়নও কী ওই বৈঠকেই হবে? প্রধান নির্বাচকের জবাব, ‘না, না। ক্যাপ্টেন সিলেকশন তো বোর্ড করে। আমরা শুধু ইনপুট দিই।