ক্ষেপেছে পাপন, সবাই দলের সাথে থাকতে পারলেও সে থাকতে পারবেনা

এক ড্রেসিংরুমে জেমি সিডন্স ও রঙ্গনা হেরাথ। আরেকটিতে অ্যালান ডোনাল্ড ও খালেদ মাহমুদ। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো কোথাও নেই।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা দুই দলে ভাগ হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছেন। কিন্তু মাঠে ডমিঙ্গোকে একবারও দেখা গেল না।

সবার মনে প্রশ্ন, ‘ডমিঙ্গো কই?’ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই মাঠে হাজির ভারতীয় কোচ শ্রীধরণ শ্রীরাম। আজ দুপুরে ঢাকায় পা রেখে তিনি সরাসরি চলে এসেছেন মিরপুর স্টেডিয়ামে।

জাতীয় দলের নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ড্রেসিংরুম দিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। মাঠে উপস্থিত কোচদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে।

এরপর সংবাদকর্মীদের ভিড় ঠেলে বেরিয়েও গিয়েছেন।পরে জানা গেল, মিরপুরের মাঠে হয়ে যাওয়া এসব ঘটনা দূর থেকে দেখছেন ডমিঙ্গো। মাঠে না এসে তিনি গিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের বাসভবনে। সেখানে কী ব্যাপারে কথা হয়েছে, সেটা জানতে চেয়ে ডমিঙ্গোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে পরিবর্তনের হাওয়া বেশ জোরেশোরেই বইছে, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপের আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে বিসিবির ভাবনা অনেকটা খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার মতো।দলের টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট হিসেবে ভারতীয় কোচ শ্রীধরণ শ্রীরামের নিয়োগ তাঁরই প্রমাণ।

বিসিবির সঙ্গে তাঁর চুক্তি অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আলোচনা হচ্ছে ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সকে জাতীয় দলে না রেখে পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ারও।কোচিং স্টাফের এত অদলবদলের ভিড়ে প্রধান কোচ ডমিঙ্গোর ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, সেটা নিয়েও বাড়ছে কৌতূহল। ডমিঙ্গোকে বিসিবি ওয়ানডে ও টেস্ট দলের কোচ হিসেবে চাইছে।অতিরিক্ত ক্রিকেটের চাপ এর পেছনে মূল কারণ বলা হচ্ছে।

এর বাইরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোর মানসিকতাও বিসিবির পছন্দ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত ডমিঙ্গোর ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটি জানা যাবে আগামীকাল।এদিকে আজ মিরপুরে কৌতূহলী সাংবাদিকেরা মোসাদ্দেক হোসেনকে ডমিঙ্গোর না থাকার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, ‘আমার এ ব্যাপারে কোনো ধারণা নেই।

এটা বোর্ডের ব্যাপার।তবে ডমিঙ্গোবিহীন টি-টোয়েন্টি দলের ছবিটা যে ক্রিকেটাররাও কল্পনা করতে শুরু করেছেন, সেটি বোঝা গেল মোসাদ্দেকের পরের কথায়, ‘একজনের (ডমিঙ্গো) সঙ্গে আপনি যখন কাজ করবেন, তখন তাকে মিস করবেন, এটাই স্বাভাবিক।মোটামুটি দুই-তিন বছরের মতো আমাদের সঙ্গে ছিল।

অবশ্যই সেটা মিস করার একটা বিষয়। আমরা মিডিয়া থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি, টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে সে হয়তো আমাদের সঙ্গে থাকবে, সেই জায়গা থেকে টি-টোয়েন্টিতে তাকে মিস করব।কিন্তু অন্য ফরম্যাটে তো সে আছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একজন কোচের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি। এখন হয়তো নতুন একটা সেটআপ আসবে।সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, মাঠে গিয়ে (পারফর্ম) করা অবশ্যই একটু কঠিন হবে। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সবাইকে এগুলো নিয়েই চলতে হবে।’