বিরিয়ানি খেয়ে তিন ভাইবোনের মৃত্যু: ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, যা বলল পুলিশ

শরীয়তপুরের জাজিরায় বাসি বিরিয়ানি খেয়ে তিন ভাইবোনের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের বাড়িতে এখনও চলছে শোকের মাতম।

তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা করলেও নিহতদের পরিবার থেকে এখনও কোনো মামলা করা হয়নি। তবে পুলিশ বলছে,

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কি কারণে তাদের মৃত্যু হলো তার রিপোর্ট দেখে মামলা হবে। এদিকে ঘটনার পর তিন ভাইবোনকে ফ্রিজের বিরিয়ানি খাওয়ানো প্রতিবেশী রওশন আরা বেগম ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিন ভাই বোনের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত হয়েছে। এখনও আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাইনি।

কি কারণে তাদের মৃত্যু হলো তা তদন্তের রিপোর্ট দেখে মামলা রুজু হবে।তিনি বলেন, ফ্রিজের বিরিয়ানি খাওয়ানো প্রতিবেশী রওশন আরা বেগমও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

তিন শিশুর মা আইরিশ বেগম, ফুফু রুপালী বেগম ও খুকু মনি বলেন, কীটনাশকের প্যাকেটে বিরিয়ানি রেখে খাওয়ানো হয়েছিল ওদের।

প্যাকেটের খাবার খাওনোর কথা আমাদের বলেনি রওশন আরা। রওশন আরা শত্রুতা করে আমাদের বুক খালি করেছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী বলেন, ফ্রিজের বিরিয়ানি খেয়ে ফুট পয়জিং হয়েছে, নাকি তাদের বিষ খাওয়ানো হয়েছে কি যানে।

তবে বিষয়টি তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করে দোষীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।উল্লেখ্য, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারিকান্দি গ্রামের শওকত দেওয়ানের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে।

এরমধ্যে ১৬ আগস্ট দুপুরে প্রতিবেশী রওশন আরা বেগমের ফ্রিজে থাকা বাসি বিরিয়ানি খায় সৌরভ মিয়া, খাদিজা আক্তার ও সাথী আক্তার।

এরপর থেকে তাদের পেটে ব্যথা ও বমি হতে থাকে। অসুস্থতা বাড়তে থাকলে তিনজনকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শিশু তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৬ আগস্ট দিনগত রাতে ঢামেক হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় খাদিজা ও সৌরভ। ১৮ আগস্ট বিকেলে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাথী আক্তারও।