আমার আর সংসারি হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই: শাবনূর

ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন শাবনূর। নব্বই দশকে জনপ্রিয়তার আকাশ ছুঁয়েছিলেন তিনি। এরপর শূন্য দশকেও ছিলেন চাহিদার তুঙ্গে।

কিন্তু প্রায় এক যুগ ধরেই তিনি সিনেমার পর্দায় অনুজ্জ্বল। দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।২০২০ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর আর দেশে ফিরতে পারেননি তিনি।

শিগগিরই তিনি দেশে ফিরতে চান এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন শাবনূর।

শিগগিরই দেশে ফিরতে চাই

যতই বিদেশে থাকি না কেন মনটা কিন্তু দেশের মাটিতেই পড়ে থাকে। এ অবস্থা শুধু আমার নয়, সব বাংলাদেশিরই। নিজ দেশের সব মানুষের মতো আমারও একটিই পরিচয়, আমি বাঙালি।

বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। দেশকে নিয়ে গর্ব করি। হয়তো জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অনেকের মতো আমাকেও বিদেশে থাকতে হচ্ছে। আমি দেশকে যেমন ভালোবাসি তেমনি আমার প্রাণের চলচ্চিত্র জগৎকেও অনেক ভালোবাসি।

সবার মতো আমারও কমন কথা হলো- ‘চলচ্চিত্র জগৎ আজ আমাকে নাম, খ্যাতি, যশ সবই দিয়েছে, চলচ্চিত্রের কারণেই আজ আমি সবার কাছে ‘অভিনেত্রী শাবনূর’ হতে পেরেছি। তাই শিগগিরই দেশে ফিরে আবারও চলচ্চিত্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চাই।

আর সংসারি হতে চাই না

আমার আর সংসারি হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়া যে কোনো নারীর জন্য ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এ কারণেই বাধ্য হয়েই স্বামীকে ডিভোর্স দিতে হয়েছে আমার। অনেকে মনে করেন, একবার কারও প্রতারণার শিকার হলে আর কোনো পুরুষ মানুষকে বিশ্বাস বা বিয়ে করা যায় না।

এটি ভুল ধারণা। ভালো মন্দ পৃথিবীর সব কিছুতেই আছে। তাই বলে ভালো মানুষ যে আর পাওয়া যাবে না তা কিন্তু নয়। আমার আর বিয়ের ইচ্ছে না থাকার কারণ হচ্ছে একমাত্র পুত্র আইজানকে প্রতিষ্ঠা করা।

সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।শ্রদ্ধেয় ববিতা আপুও কিন্তু একমাত্র সন্তান অনিককে গড়ে তোলার জন্য প্রচণ্ড সেক্রিফাইস করেছেন এবং তার ভালো ফলও পেয়েছেন।

আমিও তাই করতে চাই। আমার যদি সন্তান না থাকত তাহলে হয়তো ভালোমনের একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে খুঁজে নিতাম। সবার দোয়া চাই আমার ও আমার সন্তান আইজানের জন্য। ওকে যেন মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।

আবার অভিনয়ে ফিরব

অভিনয়ে ফিরতে আরও কিছুদিন সময় চাই। ফেরার জন্য চেষ্টা চলছে। ফিরতে হলে আমাকে আগে ফিট হতে হবে। সে চেষ্টাই করছি। ওজন কমানো খুব কঠিন একটা কাজ। হঠাৎ করে ওজন কমানো সম্ভব নয়। ফিট হওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন। চলতি বছরই আবার নিয়মিতভাবে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে। আবার ছবিতে অভিনয় করব। কারণ আমরা ব্যক্তিগতভাবে সবাই খুবই দুঃখী। আমি চাই মানুষদের বিনোদন দিতে। আমি এখনো কাজ করতে চাই। আমাকে নিয়ে যদি তেমন গল্পের ছবি বানাতে চান, আমার মতো করে গল্প বলতে চান, তাহলে অবশ্যই আমি সেসব ছবিতে অভিনয় করব।