ম্যাচ হারের পর যে কারণকে দোষলেন অধিনায়ক সাকিব

কোচ-অধিনায়ক বদলালেও এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলালো না।এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশের হার ৭ উইকেটে।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।তবে তার এমন সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা প্রমাণে খুব বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

ইনিংসের ২য় ওভারেই মুজিবুর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার ওপেনার নাঈম শেখ।দুই আফগান স্পিনার মুজিব-উর-রহমান এবং রশিদ খানের স্পিন বিষে নীল হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

ইনিংসের শুরু থেকেই আসা-যাওয়ার মিছিলে পাওয়ার প্লেতে টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৬ রান যোগ করে বাংলাদেশ।

এদিন একাধারে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক সাকিব ,মুশফিক,আফিফ সহ দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা।এই ম্যাচে এক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন ছাড়া বলার মতো রান কারো ব্যাটেই আসেনি।তবে মাহমুদউল্লাহ খেলা ইনিংস মোটেও টি-টোয়েন্টি সূলভ ছিল না।

তার ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ২৫ রান।শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ৩১ বলে ৪৮ রানের সুবাদে সম্মানজনক ১২৭ রানের সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৪.১ ওভারে দলীয় ১৫ রানে সাকিবের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

৯.২ ওভারে ৪৫ রানে অন্য ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইকে আউট করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।১৩তম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই ওভারের শেষ বলে আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিকে এলবিডব্লিউ আউট করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১৩ ওভারে ৬২ রানে ৩ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।

শেষ দিকে নজিবুল্লাহ জাদরানকে সঙ্গে নিয়ে ৩৩ বলে ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছেদেন ইবরাহিম জাদরান। ১৭ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন নজিবুল্লাহ। ৪১ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন ইবরাহিম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে খাদের কিনারায় উপনীত বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার নিজেদের পরের ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে টাইগাররা।সেই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অঘোষিত ফাইনালের মতো। সেই ম্যাচে যারা জিতবে তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার ফোরে খেলবে।ম্যাচ হারের পর অবশ্য আক্ষেপ করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান!

টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দিকে একটু আক্ষেপ ছিল সাকিবের। তবে প্রশংসা করেন তিনি মোসাদ্দেকের, যোগ্য সঙ্গী পেলে হয়তো ধানের পরিমাণ টা বাড়তে পারত।সাকিব বলেন, এটা অনেক কঠিন যখন আপনি চার উইকেট হারিয়ে ফেলেন সাত আট ওভার এর মধ্যেই। ম্যাচের প্রথম ১৪-১৫ ওভার পর্যন্ত আমরা খেলায় টিকে ছিলাম! ক্রেডিট আফগানিস্তানের, তারা অসাধারণ খেলেছে। মোসাদ্দেক দারুন পারফর্ম করেছে তবে আমাদের আরও অবদান দরকার ছিল। আমরা জানতাম নাজিবুললাহ্ কতটা ভয়ানক, আমরা ভেবেছিলাম শেষ ছয় ওভারে যখন ৬০ রান দরকার তখন ম্যাচ আমাদের! তবে ক্রেডিট নাজিবুল্লাহর।