ভারতের সঙ্গে ছুটছে আফগান ঘোড়াও

বছরখানেক আগে এখানেই কভিডকালের হোটেলবন্দি দল হতাশায় দেশে ফেরার প্রহর গুনছিল। পাকিস্তান আর নিউজিল্যান্ডের কাছে টানা দুই ম্যাচের হারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের পদধ্বনি শুনে ফেলা ভারতীয় দলে এরপর যে কয়েকটি পরিবর্তন আসে,

এর একটি রাহুল দ্রাবিড়কে কোচ করে আনা। কুড়ি-বিশের আরেকটি বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন তাঁর কোচিংয়ে এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে তীব্র বেগেই ছুটছে টিম ইন্ডিয়া।

যাদের গায়ে লেগে আছে ক্রিকেট পরাশক্তির মহিমা।সেটি অন্যান্য পরাশক্তির তুলনায় একটু বেশিই। ক্রিকেটের বাজার-বাণিজ্য মিলিয়ে তারা এমন অপ্রতিদ্বন্দ্বী যে বহুজাতিক আসরে গেলে মেলে বাড়তি খাতিরযত্নও। এই এশিয়া কাপেও হয়নি এর কোনো ব্যতিক্রম। আসরের অন্য পাঁচটি দলের ঠিকানা একই,

হাবতুর সিটির হিলটন হোটেল হলেও রোহিত শর্মার ভারতীয় দল আছে কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেইরার হোটেলে।কভিড আক্রান্ত হওয়ায় দ্রাবিড় শুরু থেকেই দলের সঙ্গী হতে পারেননি। তবে নেগেটিভ হতে না হতেই দুবাইয়ে এসে যাওয়া এই সাবেক ক্রিকেটার দলের গাঁথুনি ও পারস্পরিক যোগাযোগ মজবুত করায় জোর দিচ্ছেন আরো বেশি।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ফেসবুক, টুইটার আর ইনস্টাগ্রাম পেজ অনুসরণ করে থাকলে এরই মধ্যে জেনে গেছেন যে আরব সাগরের পারে জমজমাট এক ‘টিম বন্ডিং’ সেশনও হয়ে গেছে ভারতের।রোহিত-বিরাট কোহলিরা সার্ফিংয়ে মজেছিলেন যেমন, তেমনি নানা রকম ওয়াটার স্পোর্টসে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি বালুকাবেলায় খেলেছেন বিচ ভলিবলও।

‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দুই ম্যাচই জিতে সুপার ফোরে উঠে বসে থাকা দলটি এখন ৪ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে আরেকবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়। গত রবিবারে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখতে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নেমেছিল দর্শকের ঢল। সপ্তাহ ঘুরে আরেক ছুটির দিনে স্টেডিয়ামমুখী পথে আরেকবার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে গেল বলে!

অবশ্য এই আসরে দ্বিতীয়বারের মতো তাদের দেখা হওয়াটা নির্ভর করছিল শারজায় গত রাতের পাকিস্তান-হংকং ম্যাচের ফলাফলের ওপর। দৈব কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেছে কি না, এই লেখায় চোখ বুলানোর আগে সেটি আপনি এতক্ষণে জেনেও গেছেন। হিসাব ওলটপালট না হয়ে গিয়ে থাকলে ক্রিকেটের বাজারমূল্যে সবচেয়ে বেশি দরের ম্যাচটি হচ্ছেই।

তবে সংস্করণ যখন টি-টোয়েন্টি, তখন পরাশক্তি হওয়ার দৌড়ে ‘কাতঘানি’ ঘোড়ার ক্ষিপ্রতা এবং দৃঢ়তায় ছুটছে আফগানিস্তানও। এই দেশটির কাতঘান প্রদেশের খ্যাতিই এই প্রজাতির দ্রুতগামী ঘোড়ার প্রজননস্থল হিসেবে। এই সংস্করণের গতির সঙ্গে তাল মেলানো ক্রিকেটারও তো এখন কম নয় আফগানদের।

প্রথমে শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করে এবং পরে বাংলাদেশের বিপক্ষে সহজ জয়ে সবার আগে তারাই তো সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে।ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের আগাম ছক কেটেই যদিও শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ। কিন্তু এই সংস্করণের চাহিদার সঙ্গে মানানসই দলীয় শক্তির গভীরতায় আফগানরাও পিছিয়ে নেই কোনো অংশেই।

একসময় কেবলই মারদাঙ্গা ক্রিকেটে সফল হতে চাওয়া দলটি এখন আগ্রাসী ও রক্ষণশীল মানসিকতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আরো পরিণত। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্যই বেশি উপযুক্ত ইব্রাহিম জাদরানও এখন তাদের টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেন? সেটি তো বাংলাদেশের বিপক্ষেই দেখা গেছে।

দল কোনো কারণে টপাটপ উইকেট হারিয়ে ফেললে এক প্রান্তে ধরে খেলার পরীক্ষায় সেদিন আফগানদের উতরে নেন তিনি। সে জন্যই আরেক ‘জাদরান’ নাজিবউল্লাহ উইকেটে গিয়েই ছোটাতে পারেন ‘কাতঘানি’ ঘোড়া। তাতে শুরুতেই ধুলায় অনেকটা অন্ধকার হয়ে যায় বাংলাদেশের সুপার ফোরে ওঠার পথ।

টাইগারদের সেই পথের শেষ দেখানো শ্রীলঙ্কা আজ সুপার ফোর পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি সেই আফগানিস্তানেরই। আসরের আয়োজক শ্রীলঙ্কাও চাইবে আজ যেকোনো মূল্যে আফগান ঘোড়ার প্রবল গতিবেগে বাধা হতে। এই সংস্করণেই বেশি মনোযোগী মোহাম্মদ নবিরা অবশ্য দারুণ বোলিং বৈচিত্র্য ও মারমুখী ব্যাটারের মিশেলে অপ্রতিরোধ্যই থাকতে চাইবেন। এই এশিয়া কাপে যে ভারতের সঙ্গে সমান তালে ছুটছে আফগান ঘোড়াও!