পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ছেন তিনজন, ফিরছেন দুই তারকা

এবারের এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ২৩ রানে হেরে শিরোপা খুইয়েছে পাকিস্তান। এবার চুলচেরা বিশ্লেষণের পালা।

কেননা সামনেই তো বিশ্বকাপ। তার আগে অবশ্য রয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ। যেখানে ৭টি টি-টোয়েন্টি খেলবে পাকিস্তান।

এরপরই বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে খেলবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেখান থেকেই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাবর-রিজওয়ানরা।

এদিকে এশিয়া কাপে গড়পড়তা পারফর্ম্যান্স ছিল পাকিস্তানের। কোনও ম্যাচে বোলাররা জ্বলে উঠলেও দেখা গেছে ব্যাটাররা নিষ্প্রভ।

আবার কোনও ম্যাচে ঠিক তার উল্টো। পাকিস্তানের এমন পারফর্ম্যান্সের ফলে দলটির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

যদিও বিশ্বকাপের আগে দুইটি সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। কিন্তু তার আগেই অর্থাৎ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা দিতে হবে পিসিবিকে।পাকিস্তান এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হলে হয়তো আজই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করত পিসিবি।

কিন্তু ফাইনালে যাচ্ছে তাই পারফর্ম্যান্সের কারণে পিছিয়ে গেছে দল ঘোষণার তারিখও। বিশেষ করে তিন দিনের ব্যবধানে লঙ্কানদের কাছে দুটি হারের ঘটনায় পাকিস্তানের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছে। যার ফলে দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররাও সরব হয়েছে দল নির্বাচন নিয়ে।এদিকে জোর গুঞ্জন এশিয়া কাপে খারাপ ফর্মের কারণে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়তে পারেন মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার আসিফ আলি, খুশদিল শাহ ও টপ অর্ডার ব্যাটার ফখর জামান।

সেক্ষেত্রে দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে, হায়দার আলি, শোয়েব মালিক ও বাঁ হাতি ব্যাটার শান মাসুদের। সম্প্রতি কাশ্মির প্রিমিয়ার লিগসহ পাকিস্তানের ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি লিগেও ব্যাট হাতে দারুণ পারফর্ম করছেন শোয়েব মালিক।এশিয়া কাপে পাকিস্তানের মিডল অর্ডাল ছিল একেবারেই ভঙ্গুর।

তাছাড়াও বিশ্বকাপে ২৭ ম্যাচে পাচঁশোর বেশি রান করার রেকর্ডও শোয়েব মালিকের পক্ষে কথা বলছে। তাই ফেরার জোর সম্ভাবনা তার। অন্যদিকে ফখর জামান ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি করেছেন কেবল এক ইনিংসে। এছাড়া ২০ এর বেশি কোন ইনিংসই নেই৷ আর তাই কার বিকল্প হিসেবে দলে ডাক পেতে পারেন হায়দার আলী।এদিকে শান মাসুদ কাউন্টিতে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

যদিও অধিনায়ক বাবর আজমও তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। পুরো সিরিজে তিনি নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। ৬ ম্যাচ খেলে ১০৭ স্ট্রাইক রেটে তার উইলো থেকে এসেছে মাত্র ৬৮ রান। এশিয়া কাপে ৬ ম্যাচ খেলে ১০৩ স্ট্রাইক রেটে একটি হাফসেঞ্চুরিতে মাত্র ৯৬ রান এসেছে ফখরের ব্যাট থেকে। খুশদিল শাহ ৬ ম্যাচ খেলে ১২০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন মাত্র ৫৮ রান। আরেক ব্যাটার আসিফ আলি ৬ ম্যাচ খেলে ১৬৪ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৪১ রান।

যা এদের নামের পাশে বেশ বেমানান।সম্প্রতি মুলতানে জাতীয় টি-টোয়েন্টি চলাকালীন প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম তার সহ নির্বাচকদের সঙ্গে নিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচটি দেখেছিলেন। সে সময় ফখর জামান, খুশদিল শাহ ও আসিফ আলিসহ কয়েকজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নির্বাচকদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষে ইতোমধ্যে লাহোরে অবস্থান করছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। তিনি দলে পরিবর্তনের বিষয়ে পরামর্শের জন্য অধিনায়ক বাবর আজম এবং কোচ সাকলাইন মুস্তাকের ফেরার অপেক্ষা করছেন।এদিকে ইংল্যান্ড দল সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর করাচিতে পৌঁছাবে। এরপর আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে প্রথম টি-টোয়েন্টি। প্রথম চারটি ম্যাচ হবে করাচি স্টেডিয়ামে। পরের তিনটি ম্যাচ হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।