ভারতকে হারানো সাবিনাদের স্যালুট কোচ রব্বানীর

কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে আজ স্মরণীয় এক ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে।

এমন জয়ের পর বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সাবিনা খাতুনদের। শুধু প্রশংসা করেই থামেননি, মেয়েদের রীতিমতো স্যালুট জানিয়েছন তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি আমার মেয়েদের স্যালুট জানাতে চাই। তারা কঠিন পরিশ্রম করেছে। আজ তারা ইতিহাস তৈরি করেছে।’

বাংলাদেশ নারী ফুটবলে উন্নতি করছে। নারী ফুটবলে আসছে বদলও। কথাটা বলতে ভোলেননি গোলাম রব্বানী। এক প্রশ্নে বলেন, ‘মেয়েদের ওপর আমার আস্থা ছিল।

তারা মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলেছে। দুটি ম্যাচেই করেছে ৫টি করে গোল। তাই বিশ্বাস ছিল, ভারতকেও আমরা হারাতে পারব। আজ মেয়েরা মাঠে সেটা করে দেখিয়েছে।

জয়ের ব্যাপারে ওরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।’এত দিন দুই দলের জাতীয় দলের লড়াইয়ে ভারত ছিল বাংলাদেশের কাছে একটা আতঙ্ক। সেই আতঙ্ক আজ কীভাবে কাটাল বাংলাদেশ?

এমন প্রশ্নে গোলাম রব্বানীর কথা, ‘মেয়েরা কঠিন পরিশ্রম করছে। পরিবারের সঙ্গে না থেকে ওরা বাফুফে ভবনে থাকছে অনেক বছর ধরে।

ঢাকা ছাড়ার আগে এই দলটা পরিবর্তনের আভাস দেবে বলেছিলাম। সেটা তারা দিয়েছে। মেয়েদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমার।’মেয়েরা ম্যাচের আগে কোচকে বলেছিলেন, দেশের জন্য, মা–বাবার জন্য খেলবেন তাঁরা। সেটা তাঁরা খেলেছেন। ভারতের মেয়েরা সব চেষ্টাই করেছেন, কিন্তু পারেননি।

গোলাম রব্বানী বলেন, ‘মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের পর অনেকে বলেছিল কয়েকজনকে বিশ্রাম দিতে। কিন্ত আমি সেটা করিনি। আমি মনে করেছি, মেয়েরা এই ম্যাচ থেকে শিখবে। ওরা এখন বড় হচ্ছে।’এই ম্যাচ বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বাঁকবদলের শুরু কি না, এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কোচের কথা, ‘আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। আমার পরিকল্পনা ছিল বড় ম্যাচে একই ছন্দে খেলা।

মেয়েরা সেভাবেই খেলেছে।’আগের ১০ বারের সাক্ষাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত ৯ বারই জিতেছে। আজ কি বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিয়েছে ভারত? প্রশ্নটা উড়িয়ে ভারত কোচ বলেন, ‘মোটেও নয়। বাংলাদেশ খুবই ভালো ম্যাচ খেলেছে। তারা পুরো ছন্দে ছিল। আসলে এটা ছিল আমাদের দলীয় ভুল, এর দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। এটা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা, ভুল করলেই যে কেউ আমাদের হরাবে। অনেক কিছু আছে, যা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ-ভারত দুই দলই সেমিফাইনালে উঠে গেছে আগেই। আজকের জয়ে বাংলাদেশ হয়েছে গ্রুপ–সেরা, ভারত রানার্সআপ। ১৬ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে বাংলাদেশ পাবে তুলনামুলক সহজ প্রতিপক্ষ ভুটানকে। ভারত খেলবে স্বাগতিক নেপালের সঙ্গে। ১৯ সেপ্টেম্বর ফাইনাল।ম্যাচে ১ গোল করেছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। ম্যাচ শেষে কোচের পাশে বসা এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘এই জয় আমাদের টিমওয়ার্ক আর কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন।

আমাদের ইচ্ছা ছিল ভারতকে হারানোর। সেটা আমরা করতে পেরেছি। আগের দুই ম্যাচে গোল করতে পারেননি। লক্ষ্য ছিল ভারতের সঙ্গে গোল করব। সেই গোল পেয়ে আমি খুশি।’এমন বড় হারের পর ভারতের কোচ সুরেন কুমার ছেত্রী ছিলেন হতাশ। দল মাঠে ভালো খেলেনি, তারই ফল ৩-০ গোলে হার। এমনটাই বলেছেন ভারতের কোচ। তাঁর কথা, ‘এটা অনেক বড় পরাজয় আমাদের। তবে এখনো আমরা লড়াইয়ে আছি। আমরা খুবই খারাপ খেলেছি। কিছু ব্যক্তিগত ভুল ছিল, যার খেসারত দিয়েছি।’