সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভুল শুধরিয়ে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করলো বিসিবি

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মুশফিকুর রহিমের সুযোগ পাওয়ারই কোনো সম্ভাবনা ছিল না। বাকি ৫ পরিবর্তন এবং বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল নিয়ে পর্যালোচনা করার চেষ্টা করা হলো।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
টানা দুই বছরের মধ্যে হওয়া দুটি বিশ্বকাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। গত বছরের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তার অধীনেই মাঠে নেমেছিল। অথচ এইবার ১৫ জনের স্কোয়াড তো দূরে থাক স্ট্যান্ডবাইতেও জায়গা পাননি এই ক্রিকেটার।

নাঈম শেখ
গত বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের পক্ষে টানা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন এই ওপেনার। তবে বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচে এই ব্যাটসম্যানের স্লো ব্যাটিং নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

বিশ্বকাপ পরবর্তীতেটি-টোয়েন্টি দলে অনিয়মিত হয়ে ওঠেন এই ব্যাটসম্যান। যদিও বিশ্বকাপের পূর্বে এশিয়া কাপে ফেরার সুযোগ আসে নাঈমের সামনে। তবে আবারও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশেই থেকে যেতে হচ্ছে নাঈম শেখকে।

শেখ মাহেদী হাসান
২০২১ বিশ্বকাপে মন্দের ভালো পারফরম্যান্স করেছেন। বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে বল হাতে পাওয়ারপ্লেতে দারুণ বোলিং নৈপূণ্য দেখিয়েছেন। বোলার হিসেবে সেরা বিশে জায়গা করে নিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত মুখই ছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ এবার অস্ট্রেলিয়ায় হওয়ায় কপাল পোড়ে এইক্রিকেটারের। কেবল বিশ্বকাপের ভেন্যু নয়, ব্যাট হাতে দলের বাকি দুই অফস্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন এবং মেহেদি হাসান মিরাজের চেয়েও কিছুটা পিছিয়ে থাকা এই ক্রিকেটারের জন্য মাইনাস পয়েন্ট ছিল। যদিও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে অন্যের ইনজুরির জন্য অপেক্ষা করতে পারেন মাহেদী।

শামীম হোসেন
হার্ডহিটার হিসেবে গত বিশ্বকাপে জায়গা মিলেছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই ব্যাটসম্যানের। তবে বিশ্বকাপে চেনা শামীমকে দেখা যায়নি একবারও। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে যে হারিয়েছেন, এরপর থেকে কেবল পেছনেই গেছেন এই ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ ঘরোয়া লিগেও আর দিতে পারেননি। দল থেকেও ছিটকে গেছেন গত বিশ্বকাপের পর থেকেই।

সৌম্য সরকার
হার্ডহিটার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও কার্যকর সৌম্য সরকার। কিন্তু সেই কার্যকারিতা মেলে না ক্রিকেট মাঠে। যার কারণে দলে সুযোগও মিলছে না। যদিও অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ বলে এখনো কিছুটা আশা দেখতেই পারেন সৌম্য। কারণ মূল স্কোয়াডে না রাখলেও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে জায়গা মিলেছে এই ক্রিকেটারের।

আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গত বছরের দুবাইতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে ভুল শুধরিয়ে ৬ পরিবর্তন এনে এবারের দল সাজিয়েছে নির্বাচকরা।এই তো গেল বাদ পড়া ক্রিকেটারদের হিসেব-নিকেশ। কিন্তু বর্তমান দল কেমন হলো?

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিবেচনায় এবারের স্কোয়াড পাশ মার্ক পেয়ে বেশ ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়ে যাবে। এবারের দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইমপ্যাক্টের উপর চোখ রেখেছেন টি-টোয়েন্টির অলিখিত নতুন বস শ্রীধরন শ্রীরাম।টাইগার দলে জেনুইন ওপেনার হিসেবে কেবল লিটন দাসের নামই দেখা যায়। তবে এশিয়া কাপেই ভিন্ন কিছুর আভাস দিয়েছিলেন শ্রীরাম। সেই হিসেবে এই পজিশনে দেখা যেতে পারে সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তকে। অবশ্য এর একটি উত্তর পাওয়া যাবে নিউজিল্যান্ডের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট শেষে।তিনে যথারীতি অধিনায়ক সাকিবই থাকবেন।

চার এবং পাঁচের জন্য আফিফ হোসেন, ইয়াসির রাব্বী হতে পারেন বেস্ট অপশন। অবশ্য লিটনের নামও শোনা যাচ্ছে। ছয় এবং সাত নাম্বার পজিশনের জন্য মোসাদ্দেক হোসেন এবং নুরুল হাসান সোহানের বিকল্প এই মুহূর্তে টাইগার দলে নেই।বাকি চার পজিশনের জন্য যুদ্ধ করবেন বোলাররা। যেখানে মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন এবং নাসুম আহমেদ অষ্টম পজিশনের জন্য এবং বাকি তিন পজিশনের জন্য পেসার তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেনের নামই ঘুরে ফিরে আসবে।

টাইগার ক্রিকেটের বর্তমান চিত্র বিবেচনায় নিলে এই দলটাই ইমপ্যাক্ট বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি যোগ্য। যেখানে শান্তর নাম নিয়ে কিছুটা বিতর্ক সৃষ্টি হলেও ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বিবেচনায় নিলে সেই তর্কও কেটে যাবে।এখন কেবল অপেক্ষা বিশ্ব মঞ্চে টাইগারদের এক হয়ে নিজেদের সেরা খেলা উপহার দেওয়ার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড- সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (সহ-অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ।স্ট্যান্ড বাই- শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী ও সৌম্য সরকার।