টেস্ট থেকে অবসর নিচ্ছেন রুবেল

এবার সীমিত পরিসরের ক্যারিয়ার লম্বা করতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন।

অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দেশের সবচেয়ে বড় আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগে তাকে পাওয়া যাবে না। নিজের সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে বিসিবিকে জানিয়েছেন রুবেল।

এখন পরিবার নিয়ে সিলেটে আছেন রুবেল হোসেন।এ বিষয়ে রুবেল হোসেন বলেছেন, ‘আমি নিজেকে টেস্ট ক্রিকেটে আর বিবেচেনা করছি না।

এজন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার কোনও মানে নেই। আমার পরিবর্তে নতুন একজন পেসার সুযোগ পেলে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।’

এদিকে লাল বলের প্রতি নিজের ভালোবাসা থাকলেও বয়স বাড়ায় এ ফরম্যাটে ভবিষ্যৎ ধূসর মনে হচ্ছে ডানহাতি পেসারের কাছে, ‘বয়স বাড়ছে।

আমার নিজের শরীরেরও তো একটি বিষয় আছে। এজন্য ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আমার মনোযোগ বেশি। টেস্ট ক্রিকেট আমি পছন্দ করি।

কিন্তু এখন আমার শরীর নিয়ে একটু ভাবতে হচ্ছে।’এদিকে সাদা পোশাক ও লাল বল নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা রুবেল জানালেও মাঠের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান উল্টো তথ্যই দিচ্ছে।

১২ বছরের বেশি টেস্ট ক্যারিয়ারে কখনোই খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। বাদ পড়েছেন অনেকবার, নতুন আশা নিয়ে ফেরানোও হয়েছে বারবার।

লাভ হয়নি কিছুতেই। ক্যারিয়ারে ২৭ টেস্ট খেলে রুবেলের উইকেট কেবল ৩৬টি। বোলিং গড় ৭৬.৭৭, ১০টির বেশি টেস্ট খেলা বোলারদের মধ্যে টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে বোলিং গড় তারই।এছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৬০ ম্যাচে তার উইকেট ৯৭টি।

এখানেও বোলিং গড় ৫৪.০৩। রুবেল শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন গত এপ্রিলে ঢাকা লিগে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারের অলস সময় যাচ্ছে।

টুকটাক ফিটনেস ট্রেনিং করছেন। কিন্তু বোলিং করছেন না দীর্ঘদিন। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে তার ক্যারিয়ারে ভাটার টান।এদিকে জাতীয় দলের বর্তমান স্কোয়াডে পেস বোলারদের লম্বা লাইন ও পাইপলাইনে থাকা পেসারদের ভিড়ে রুবেল হারিয়ে যাবেন না তো?

রুবেল এমনটা বিশ্বাস করেন না, ‘ভালো খেললে আবার আমি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে ফিরতে পারি। প্রিমিয়ার লিগ আছে, বিপিএল আছে সেগুলোতে ভালো করলে অবশ্যই নির্বাচকরা আমাকে ডাকবেন। বিবেচনায় রাখবেন।’